বিধানসভা নির্বাচন
পশ্চিমবঙ্গসহ ৫ রাজ্যে চলছে ভোট গণনা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ | ১০:৫৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণণা শুরু হয়েছে। আজ দুপুরের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল জানা যেতে পারে। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোট গণনা। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভারতের আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির নির্বাচনের লড়াইয়ের ফলাফলও জানা যাবে আজ।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা বাদে ২৯৩টি আসনে ভোট গণনা করা হচ্ছে। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট ও পরে ইভিএমের ভোট গণনা হবে। ভোটের ফলাফল নিয়ে পুরো রাজ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাধীনতা-উত্তর পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য এমন ক্ষুরধার প্রতিযোগিতা দেখা যায়নি। রাজ্যটির ক্ষমতায় আসীন হবে নরেন্দ্র মোদির দল নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাবনিকাশ। রাজ্যের দুই দফায় ভোট গ্রহণে রেকর্ড ৯৩ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। ভোট গণনায় ৪ ঘণ্টার মতো সময় লাগতে পারে। দুপুর ১২টার দিকে আসতে থাকবে ভোটের ফলাফল।
বুথফেরত সমীক্ষার বড় অংশই ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে এবং বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে জোট সরকারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নির্বাচন কমিশন ভোট গণনা অবাধ ও স্বচ্ছ রাখতে প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কড়া বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা রয়েছে। তৎপর রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ। শুধু কিউআর কোডভিত্তিক পরিচয়পত্র থাকলে তবেই গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি মিলবে। পর্যবেক্ষক এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে সেখানে ঢুকতে পারবেন না।
এবার ভোট গণনা করা হচ্ছে কলকাতাসহ রাজ্যের ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে। এর মধ্যে কলকাতায় রয়েছে পাঁচটি গণনাকেন্দ্র। কলকাতার সবচেয়ে বড় গণনাকেন্দ্র হচ্ছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র। এখানে কলকাতার ১১টি বিধানসভা আসনের সাতটির ভোট গণনা হবে।
সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন কমিশন মোট ৪৩২ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। এ ছাড়া ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক এবং ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। উত্তর ২৪ পরগনায় ৩৩টি আসনে ৪৯ জন গণনা পর্যবেক্ষক রয়েছেন। রাজ্যে সেটাই সর্বাধিক। সবচেয়ে কম আলিপুরদুয়ারে। সেখানে পাঁচটি আসনে ছজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
তৃণমূলের আশঙ্কা, বিজেপি নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় স্ট্রং রুমে ঢুকে ইভিএম মেশিনে কারচুপি করে ফলাফল বদলে দিতে পারে। তাই মমতা নেতাকর্মীদের স্ট্রং রুম পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতাও গত শুক্রবার রাতে চার ঘণ্টা অবস্থান করেন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল কেন্দ্রের স্ট্রং রুমে।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি একই দিনে আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং পুদুচেরিতেও ফলাফল প্রকাশিত হবে। অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষায় কেরলে সরকার বদলের ইঙ্গিত দিয়েছে। আসাম, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতে ক্ষমতাসীন জোটের প্রত্যাবর্তনের বার্তা দেওয়া হয়েছে সমীক্ষায়। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর ফলাফলের দিকেও নজর সবার। সেখানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন কিনা, নাকি নতুন শক্তি হিসেবে অভিনেতা বিজয় থালাপতির দল উঠে আসবে, সেটাও দেখার বিষয়।
ব্যাপক সহিংসতা, ইভিএম কারচুপি এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই কেন্দ্রের সব বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে।
২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ফলতায় নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার চিত্র ধরা পড়ে। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টে বলা হয়, সেখানে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ ছিল না। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ফলতা বিধানসভার মোট ২৮৫টি বুথেই আগামী ২১ মে পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট গণনার জন্য ১২ হাজার সতর্কতা দিয়েছে বিজেপি। গণনাকেন্দ্রে কড়া নজর রাখবে গেরুয়া শিবির। বিজেপি যদি ৫০০-৭০০ ভোটে এগিয়ে থাকে, তাহলে ভোট পুনর্গণনার আবেদন করার নির্দেশনা দিয়েছেন মমতা।
