যে কারণে আরাকান আর্মির সশস্ত্র লড়াই চলতেই থাকবে
ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ১৩:৪২
মিয়ানমারের জাতিগত বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) সাম্প্রতিক দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক এই দ্বিমুখী লক্ষ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এতে বোঝা যায়, রাষ্ট্র গঠন এবং কেন্দ্রীয় সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই এ দুটি বিষয় একসঙ্গেই চলবে।
১০ এপ্রিল সংগঠনের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বার্তায় প্রধান কমান্ডার তুন মিয়াত নাইং তাদের স্লোগান পুনর্ব্যক্ত করেন। তা হলো ‘লড়াই করতে করতে গড়ে তোলা, আর গড়তে গড়তেই লড়াই।’ তিনি বলেন, মুক্ত এলাকায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামরিক নিয়ন্ত্রণ বিস্তার– এই দ্বৈত কৌশলই তাদের পথ। সংগঠনের উপপ্রধান কমান্ডার নিও তুন আউং পার্শ্ববর্তী রাজ্যে মিত্র সংগঠন ইন্টারিম চিন ন্যাশনাল কনসালটেটিভ কাউন্সিলের (আইসিএনসিসি) পঞ্চম বার্ষিকীতে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, জনগণের মুক্তির জন্য শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তোলা অপরিহার্য। যদিও আরাকান আর্মি এখনও ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের অংশ, তাদের অবস্থান উত্তর শান রাজ্যের মিত্রদের থেকে আলাদা হচ্ছে।
অনলাইন আর্কাইভ অ্যাক্সেস
আরাকান আর্মির কার্যক্রম চীন সীমান্ত থেকে অনেক দূরে হওয়ায় বেইজিংয়ের প্রভাব সীমিত। চীন তাদের ওপর সরাসরি সামরিক চাপ দিতে পারে না।
অসম্পূর্ণ লক্ষ্য
আরাকান আর্মির প্রধান লক্ষ্য এখনও পূর্ণ হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ শহর সিত্তে, কিয়াউকফিউ ও মানাউং দ্বীপ এখনও সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণে। চীনের অনুরোধে আরাকান আর্মি আলোচনায় বসতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কম।
শক্তিশালী অবস্থান
বর্তমানে আরাকান আর্মি শুধু ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স নয়, পুরো মিয়ানমারের জাতিগত বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী বাহিনী। তাদের যোদ্ধা সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। তাদের জনসমর্থনও ব্যাপক। যেখানে কোকাং বা তা’আং জনগোষ্ঠীর সংখ্যা তুলনামূলক কম, সেখানে রাখাইনের জনসংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ লাখ, যা এএকে শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে।
জনসমর্থন ও কৌশলগত সুবিধা
আরাকান আর্মির এলাকা সমুদ্রপথে সংযুক্ত এবং ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে। যা তাদের বড় সুবিধা দেয়। অন্যদিকে এমএনডিএএ ও টিএনএলএ ভূমিবেষ্টিত এবং চীনের ওপর নির্ভরশীল।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
আরাকান আর্মিসহ অন্য জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলোর লক্ষ্য মূলত নিজ নিজ অঞ্চল ও জনগণকে কেন্দ্র করে। তারা এখনও পুরো মিয়ানমারের জন্য একটি জাতীয় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেনি। দ্য ইরাবতীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুন মিয়াত নাইং স্বীকার করেন, আরাকান আর্মি এখনও জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়।
- বিষয় :
- আরাকান আর্মি
- মিয়ানমার
