ইসরায়েলের গণহত্যা
ক্রমে উত্তপ্ত হচ্ছে গাজা পরিস্থিতি
ছবি: আল-জাজিরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ২৩:২৯
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক হামলায় গতকাল রোববার অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে হামাস নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনীর দুই সদস্যও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনও খুবই নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। এদিকে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায় নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে। পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
স্থানীয় চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটির কাছের মাগাজি শরণার্থী শিবিরে এক বিমান হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। একই সময় খান ইউনিস এলাকায় আরেকটি হামলায় গাজার অপরাধ দমন পুলিশের প্রধান ওয়েসাম আবদেল-হাদি এবং তাঁর এক সহকারী নিহত হন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছিল, ইসরায়েল গাজায় হামাস পরিচালিত পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলা বাড়িয়েছে। এই বাহিনী মূলত হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজ করছিল। তবে এসব হামলা নিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং প্রায় প্রতিদিনই সেখানে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের হিসাবে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করছে, একই সময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছে।
এদিকে, গাজাগামী ত্রাণবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে আটক করা দুই অধিকারকর্মীকে মুক্তি দিয়ে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। তারা হলেন ব্রাজিলের কর্মী থিয়াগো দে আভিলা ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ কর্মী সাইফ আবুকেশেক।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইসরায়েলি আদালত দুই দফায় তাদের আটকাদেশের মেয়াদ বাড়িয়েছিল। খবর আনাদোলুর।
