পাকিস্তানকে সম্মান দিয়ে সার্ক এগিয়ে নিতে ভারতকে পরামর্শ
বীণা সিক্রি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ০৮:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতের সাবেক কূটনীতিক বীণা সিক্রি আঞ্চলিক কূটনীতিতে বাস্তববাদী মনোভাব দেখাতে নয়া দিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি মনে করেন, ভারতের উচিত নয় কেবল প্রতিপক্ষসুলভ বয়ান তৈরির মধ্যে আটকে থাকা। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ‘সম্মান’ দেখিয়ে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) এগিয়ে নিতে ভারতকে পরামর্শ দেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বীণা সিক্রি সার্ক নিয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেন। গতকাল সোমবার ভারতীয় গণমাধ্যম এ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। বাংলাদেশে ভারতের সাবেক এ হাইকমিশনার বলেন, নয়া দিল্লি সার্ককে পাকিস্তানের কারণে আটকে রাখেনি। বরং সন্ত্রাসবাদের নীতিগত প্রশ্নে ভারত এ অবস্থানে রয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিষয়টি স্পষ্ট ও কাঠামোগতভাবে সমাধান না হলে আঞ্চলিক এ জোট সামনে এগোতে পারবে না।
সাক্ষাৎকারে তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার বিস্তৃত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। বীণা সিক্রি বলেন, ‘এটি শুধু সন্ত্রাসের বিষয় নয়। অর্থ যদি অস্ত্র হয়ে থাকে, তাহলে কে কোন লাইন দিয়ে কী করছে, সেগুলোও পরিষ্কার করতে হবে। তাহলেই আমরা এ বয়ানটি স্পষ্ট করতে পারব– পাকিস্তানের কারণে শুধু সার্ক আটকে রাখছি না। আমরা সন্ত্রাসবাদের নীতিগত প্রশ্নে সার্ক স্থগিত রেখেছি। আমরা চাই এ সমস্যার সমাধান হোক। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে বৃহত্তর আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। বীণা বলেন, ‘এর সঙ্গে আরও কিছু প্রচেষ্টা যুক্ত হওয়া দরকার। যেমন আজ বাংলাদেশে, নেপালে পরিবর্তন এসেছে ইত্যাদি। নতুন প্রজন্ম দৈনন্দিন বাস্তব বিষয় চায়। প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, বৃত্তি, বাজার, মানুষে-মানুষে যোগাযোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়; যেখানে ভারতের বিপুল সম্ভাবনা ও সক্ষমতা রয়েছে।’
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সার্কের ভেতরে ভারত ও বাংলাদেশের উদাহরণই ধরা যাক। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ১৫ বছরে তিনি যা করেছিলেন, তা হলো ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সীমা বা রেড লাইনগুলোকে সম্মান করার কথা বলেছিলেন।’
বাস্তববাদী আঞ্চলিক কূটনীতির আহ্বান জানিয়ে সিক্রি বলেন, ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বয়ানের মধ্যে আটকে থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘চলুন, সার্ক নিয়ে কথা বলি। বাস্তববাদী হই এবং বলি, সার্কে ভারত-পাকিস্তানের যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে, সেটিকে একপাশে রাখি। পাকিস্তানের সঙ্গে নিজেদের অভ্যন্তরীণ লড়াই এক পাশে সরিয়ে রাখি। পাকিস্তানকে সেই সম্মান দিন। কারণ, এখন বিশ্বের বাকি অংশ পাকিস্তানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখে।’
১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সার্কের সদস্য দেশগুলো হলো— আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।
