ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তরমুজ খেয়ে মৃত্যু: রহস্যের কূলকিনারা পাচ্ছে না পুলিশ

তরমুজ খেয়ে মৃত্যু: রহস্যের কূলকিনারা পাচ্ছে না পুলিশ
×

নিহত আব্দুল্লাহ, তার স্ত্রী নাসরিন এবং তাদের দুই মেয়ে আয়েশা ও জয়নব। ছবি-বিবিসি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ১৮:২৩ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ১৮:২৫

ভারতের মুম্বাইয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয় সপ্তাহ তিনেক আগে। রাতের খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তারা। দ্রুত হাসপাতালে নিয়েও কাউকে বাঁচানো যায়নি।

কেন হঠাৎ এমন ঘটনা! কী ঘটেছিল সেদিন? তদন্তকারীরা বলছেন, এর কোনো কূলকিনারা তারা পাচ্ছেন না।

গত ২৫ এপ্রিল মুম্বাইয়ের পাইধুনি এলাকার ঘটনা এটি। রাতের খাবার খাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন আব্দুল্লাহ, তার স্ত্রী নাসরিন এবং তাদের দুই মেয়ে আয়েশা ও জয়নব। হাসপাতালে নেওয়ার পর অল্প সময়ের ব্যবধানের চারজনেরই মৃত্যু হয়। 

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এই ঘটনাকে 'তরমুজ-মৃত্যু' হিসেবে উল্লেখ করে। কারণ আব্দুল্লাহ পরিবারের সদস্যরা সেদিন সর্বশেষ তরমুজ খেয়েছিলেন। এই মৃত্যু নিয়ে পরে আরও অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তরমুজ খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয় কিছু প্রতিবেদনে। অনেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আব্দুল্লাহ পরিবারের সবাই যে তরমুজটি খেয়েছিলেন সেটিতে বিষ মেশানো হয়েছিল। রাতে সেটি খাওয়ার কারণে বিষক্রিয়ায় তারা মারা গেছেন। এই ঘটনার পর মুম্বাইয়ের ফলের বাজারে তরমুজের চাহিদা নাটকীয়ভাবে কমে যায়, দামেও ধস নামে।

আব্দুল্লাহ পরিবারের মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত- তা নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহে মুম্বাই পুলিশ জানায়, ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, চারজনের মৃত্যুর কারণ ছিল জিঙ্ক ফসফাইড, যা সাধারণত ইঁদুর মারার জন্য বিষাক্ত রাসায়নিক হিসেবে ব্যবহার হয়। মৃত চারজনের শরীর ও তরমুজের অবশিষ্টাংশে ওই বিষ পাওয়া গেছে।

তবে এই তথ্য পাওয়ার পরও রহস্য কাটছে না, কারণ অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। গত বুধবার মুম্বাই পুলিশ বলে, কীভাবে তরমুজে বিষ প্রবেশ করল, তা এখনও অস্পষ্ট। 

মুম্বাই পুলিশের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা এখনও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছি এবং সম্ভাব্য সবকিছু  খতিয়ে দেখছি। হত্যাকাণ্ড, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু অথবা আত্মহত্যা— কোনোটাই উড়িয়ে দিচ্ছি না।'

প্রথম মন্তব্যে অবশ্য পুলিশ জানিয়েছিল, রাতে পরিবারটি কয়েক আত্মীয়কে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং তারা সবাই বিরিয়ানি খেয়েছেন। অতিথিরা রাত ১০টা ৩০ মিনিটে চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর আব্দুল্লাহ পরিবারের সবাই তরমুজ খান। এর পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মুম্বাই পুলিশের ডেপুটি কমিশনার প্রবীণ মুন্ধে বলেন, 'তারা সবাই বমি করতে থাকে এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। দ্রুত কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত চারজনই মারা যান।' সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন

×