এআই ব্যবহার না করতে বলে শিক্ষক নিজেই এআই দিয়ে লিখলেন নিবন্ধ
ছবি: সংগৃহীত
দ্য গার্ডিয়ান
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ১০:২২ | আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ | ১০:২৬
অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে শর্টকাট না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে একটি মতামতধর্মী নিবন্ধ লিখেছিলেন। তবে পরে জানা যায়, ওই নিবন্ধ তৈরির ক্ষেত্রেই তিনি নিজে এআইয়ের সহায়তা নিয়েছিলেন। ঘটনায় সমালোচনার মুখে নিবন্ধটি নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেয় সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।
ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ালিটি অ্যান্ড ইন্টেগ্রিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ক্যাথ এলিস গত মাসে সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে একটি মতামতধর্মী নিবন্ধ লেখেন। এটি ছিল শিক্ষাবিদ অয়েসগিটার-লবার্টের একটি লেখার প্রতিক্রিয়া।
ওই লেখায় বলা হয়েছিল, শিক্ষার্থীরা সহজেই এআইয়ের ওপর নির্ভর করে শেখার প্রক্রিয়া থেকে সরে যেতে পারে। এমনকি তিনি নিজের মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না করার কথাও ভাবছেন বলে উল্লেখ করেন, কারণ তার মতে এখন অনেক জায়গায় মূল্যায়ন করা হচ্ছে 'কে সবচেয়ে ভালো এআই প্রম্পট লিখতে পারে' তার ওপর ভিত্তি করে।
এর জবাবে এলিস লেখেন, এআই একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ হলেও শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নিয়মিতভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, “শর্টকাট নেবেন না। নিজের চিন্তাভাবনা অন্যের কাছে আউটসোর্স করবেন না, যতই প্রলোভন থাকুক। যদি শিক্ষা ব্যবস্থা সত্যিই দুর্বল হয়, তাহলে প্রকৃত পরিশ্রমই আলাদা করে চোখে পড়বে।”
তবে পরে এআই শনাক্তকারী সেবা ‘প্যাংগ্রাম’-এ নিবন্ধটি বিশ্লেষণ করে এটি এআই-সৃষ্ট বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পশ্চিম সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকার করে যে লেখাটির প্রস্তুতিতে এলিস এআই ব্যবহার করেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, এলিস তার নিজের লেখা প্রায় ৪০ হাজার শব্দের গবেষণা ও উপকরণ মাইক্রোসফট কপাইলটভিত্তিক একটি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলে আপলোড করেন। এরপর সেই মডেল তার দীর্ঘদিনের গবেষণা ও অভিজ্ঞতা থেকে তথ্য সংক্ষেপ করে খসড়া তৈরি করতে সহায়তা করে।
মুখপাত্রের ভাষায়, এটি ছিল তার দীর্ঘ গবেষণা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি একটি প্রাথমিক খসড়া, যেখানে এআইকে সহায়ক টুল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই এটিকে তারা যথাযথ ব্যবহার বলেই মনে করে। তবে প্রকাশের সময় নিবন্ধটিতে এআই ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের মালিক প্রতিষ্ঠান নাইনের সম্পাদকীয় নীতিমালায় বলা হয়েছে, লেখকরা প্রাথমিক আইডিয়া বা গবেষণায় এআই ব্যবহার করতে পারেন। তবে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা হলে তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। এ বিষয়ে পরে পত্রিকার সম্পাদক জর্ডান বেকার জানান, এলিসের নিবন্ধটি তাদের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না, তাই সেটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকতা ও একাডেমিক লেখালেখিতে এমন বিতর্কও বাড়ছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রে এক ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকের ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহারের কারণে বিতর্ক ও পদক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তৃতায় এআইয়ের প্রশংসা ঘিরেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী আশঙ্কা করছেন, এআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার ভবিষ্যতে নতুন স্নাতকদের কর্মসংস্থানের সুযোগকে প্রভাবিত করতে পারে।
- বিষয় :
- অস্ট্রেলিয়া
- এআই
