ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

হরমুজে হেলিকপ্টারের ক্রু উদ্ধারে প্রথম ব্যবহৃত মার্কিন সি ড্রোনটি আসলে কী

হরমুজে হেলিকপ্টারের ক্রু উদ্ধারে প্রথম ব্যবহৃত মার্কিন সি ড্রোনটি আসলে কী
×

উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত ড্রোনটির নাম ‘সারোনিক করসেয়ার’। ছবি: সংগৃহীত

রয়টার্স

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ১১:০০

হরমুজ প্রণালিতে ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী প্রথমবারের মতো একটি স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করেছে। সামরিক ইতিহাসে এ ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ধার অভিযানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত ড্রোনটির নাম ‘সারোনিক করসেয়ার’। প্রায় ২৪ ফুট দৈর্ঘ্যের এই চালকবিহীন নৌযান সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

২০২১ সালে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনী ‘টাস্কফোর্স ৫৯’ নামে চালকবিহীন নৌযান কেন্দ্রিক একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করে। পরবর্তীতে এই ইউনিটের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন ‘সি ড্রোন’ মোতায়েন শুরু হয়, যার মধ্যে ‘করসেয়ার’ অন্যতম। পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রথাগত যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক স্বয়ংক্রিয় নৌযান মোতায়েন করা হবে, যা নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বাড়াবে।

মার্কিন নৌবাহিনী সমুদ্রের উপরিভাগ ও পানির নিচে-উভয় ক্ষেত্রেই চালকবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এসব ড্রোন শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, মাইন শনাক্তকরণ এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রযুক্তি মানবসৈন্যের ঝুঁকি কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। যদিও পানির নিচের কিছু উন্নত ড্রোনের তথ্য এখনো গোপন রাখা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সামুদ্রিক ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখছে। ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতে চালকবিহীন নৌযানের সফল ব্যবহারের নজিরও দেখা গেছে, যেখানে ড্রোন দিয়ে যুদ্ধজাহাজ ও আকাশযান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

মার্কিন নৌবাহিনী ভবিষ্যতে শত শত, এমনকি হাজার হাজার স্বয়ংক্রিয় ড্রোন মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কম খরচে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা অর্জনের জন্য এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর পূর্ণাঙ্গ কার্যকারিতা এখনো উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×