ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

শান্তিচুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, আজই হতে পারে স্বাক্ষর

শান্তিচুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, আজই হতে পারে স্বাক্ষর
×

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

রয়টার্স

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৯:৩৩ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ | ১০:৪২

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তি রোববার স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তিতে সই করবেন। শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের পর ট্রাম্পও একই ধরনের ইঙ্গিত দেন। তবে তেহরান জানিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, 'আগামীকাল (রোববার) চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।' তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত, সহজ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে।

এর আগে শনিবার সকালে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, 'আমরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন শান্তিচুক্তির আরও কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হতে পারে। এরপর তা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হবে। পাকিস্তান এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরবর্তী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।'

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের বলেন, চুক্তি রোববার নয়, বরং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে পারে। তিনি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনা চললেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান। শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সমঝোতা নিয়ে আশাবাদের সুর স্পষ্ট হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর গত তিন মাসে এমন ইতিবাচক ইঙ্গিত আগে দেখা যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার এক্সে লেখেন, 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বাস্তবতার কাছাকাছি।' পরে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, সব বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি নিশ্চিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য চুক্তি দূরবর্তী বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হবে।

অন্যদিকে পশ্চিমা এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পও এর আগে একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরান বেশি সুবিধা পাচ্ছে-এমন আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, 'ইরান যেসব শর্ত ফাঁস করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে লিখিতভাবে সম্মত হওয়া শর্তগুলোর কোনো মিল নেই।'

প্রস্তাবিত সমঝোতা চুক্তির ধারাগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ শিথিল করা হতে পারে। তেহরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত অর্থের একটি অংশ ছাড় দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিক এই চুক্তিতে পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকছে না। এ বিষয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

হোয়াইট হাউসের দাবি, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা অন্যত্র স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি অস্বীকার করেছে। ইরানের বক্তব্য, ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা বিদেশে পাঠানো হবে না; বরং দেশের ভেতরেই তা সংরক্ষণ করে সমৃদ্ধতার মাত্রা কমানো হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুদ্ধ শুরুর ৪০ দিন পর, ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরবর্তী সময়ে ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। এরপর দ্বিতীয় দফা বৈঠকের উদ্যোগ চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সরাসরি বৈঠকের পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, খামেনির দাফন কার্যক্রম আগামী ৪ জুলাই শুরু হবে এবং ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে তাকে সমাহিত করা হবে।

আরও পড়ুন

×