ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

আপামার সেই গ্রামবাসীর চাওয়াই যেন ‘পূরণ করলো’ ব্রাজিল

আপামার সেই গ্রামবাসীর চাওয়াই যেন ‘পূরণ করলো’ ব্রাজিল
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৯:৫৬ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ | ১১:১৬

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ছিল মরক্কো। সেই ম্যাচে ব্রাজিলের জয় চায়নি দেশটির উত্তরাঞ্চলের রাজ্য আমাপার অন্তর্গত মাজাগাও ভেলহো গ্রামের অন্তত ৪০০ পরিবার। তাদের সেই চাওয়াই যেন ‘পূরণ করলেন’ ভিনিসিয়াস জুনিয়র-রাফিনিয়ারা। নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের সমতা নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচের আগে ওই গ্রামের অন্তত ৪০০ পরিবারের চাওয়া ছিল, এই ম্যাচে যেন কোনো দলই জয় না পায়। এর কারণ মরক্কোর সাথে ওই গ্রামের লোকদের ২০০ বছরের পুরনো ইতিহাস জড়িয়ে আছে।

আমাজন রেইনফরেস্ট এবং বিস্তৃত জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত মাজাগাও ভেলহো গ্রামের এক অধ্যাপক অ্যান্টোনিও হোসে ম্যাচের আগে ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, আমরা চাই ব্রাজিল ও মরক্কো মুখোমুখি হোক। তবে আমরা কারো জয় চাইছি না। আমরা কিছুটা মরক্কোর পক্ষে, আবার কিছুটা ব্রাজিলের পক্ষেও। তাই আমরা ড্র চাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো দলের গোলেই মন খারাপ করতে চাই না। যদিও প্রতিটি গোলের পর গ্যালারির এক অংশ অবশ্যই উল্লাসে ফেটে পড়বে।

তাদের এমন চাওয়ার পেছনে রয়েছে প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো ইতিহাস। ১৮০০ শতকের দিকে আরব ভূমিতে ধর্মযুদ্ধ চালায় পর্তুগিজরা। মুর ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার সেই যুদ্ধ আঘাত হানে মরক্কোর পর্তুগিজ উপনিবেশে। এ সময় মরক্কোর মাজাগাও (বর্তমানে এল জাদিদা নামে পরিচিত) অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রাণনাশের শঙ্কা তৈরি হয়।

পরবর্তীতে সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে ওই অঞ্চলের বহু পরিবার উত্তর আফ্রিকা ছেড়ে দক্ষিণ আমেরিকায় পাড়ি জমায়। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা শেষে প্রায় ৪১০টি পরিবার ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। এরপর সেখানে গড়ে ওঠে নতুন মাজাগাও ভেলহো।

আজও সেই গ্রামের মানুষ নিজেদের ঐতিহাসিক শিকড়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক অনুভব করেন। ব্রাজিলে জন্ম ও বেড়ে ওঠা হলেও মরক্কোর প্রতি তাদের আবেগ ও ভালোবাসা রয়ে গেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।

আরও পড়ুন

×