পরিবেশ
দূষিত নদী থেকে সাঁতারের কেন্দ্র
ফ্রান্সের প্যারিসের সেইন নদীতে সাঁতার কাটছেন বাসিন্দারা সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫১ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ১১:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
দূষণের কারণে ফ্রান্সের প্যারিসের সেইন নদীতে গোসল বা সাঁতারের ধারণাটি একসময় ছিল অকল্পনীয়। তবে এখন তা সম্ভব হচ্ছে। শুধু প্যারিস নয়, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের শহরে এভাবে নদনদীকে আবার আগের মতো গোসল ও সাঁতারের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। এ তালিকায় সবার আগে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। নদী থেকে দূষণ সরানোর ক্ষেত্রে পুরো বিশ্বেই নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে তারা।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের তথ্য বলছে, কোপেনহেগেন, বাসেল, জুরিখ, বার্ন, অসলো ও প্যারিসের মতো শহরগুলোতে বাসিন্দারা আবার নদীর পানিতে নামতে শুরু করেছেন। তবে এখনও অনেকের মধ্যে শঙ্কা রয়ে গেছে। বিশেষ করে প্যারিসের বাসিন্দাদের মধ্যে। এক জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশই পানিতে নামতে রাজি নন। তাদের মাথায় গেঁথে গেছে দূষণের বিষয়টি।
বিশ শতকের শুরুর দিকেও এই হিসাব ছিল উল্টো। পশ্চিম ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বেশ কিছু অংশে মানুষের জলাধারে গোসলের বিকল্প ছিল না। বেশির ভাগ বাড়িতেই গোসলের ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি নিউইয়র্ক, লন্ডন, বস্টন, ফিলাডেলফিয়া ও প্যারিসের বাসিন্দারাও এভাবে গোসল করতেন। তবে শিল্পায়ন সম্প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হিসাব পাল্টে যায়। বিভিন্ন শহরে দূষণের মাত্রা আকাশচুম্বী হয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন
দেশে সরকারই মানুষের গোসলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে শুরু করে। ফ্রান্সের প্যারিসেই ১৯২৩ সালে মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনা করে নদীতে গোসলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
১৯৮৮ সালে প্যারিসের কর্মকর্তারা নদী পরিষ্কারের বিষয়টি নিয়ে আলাপ শুরু করলেও ২০১৬ সালের আগ পর্যন্ত এটি সেভাবে আলোর মুখ দেখেনি। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সেইন নদী সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তিনটি স্থানকে রাখা হয় নিবেদিতভাবে গোসলের জন্য। ওই সময় থেকে অন্তত এক লাখেরও বেশি মানুষ পানিতে নেমেছেন। দূষণের মাত্রা বেড়েছে কিনা, পানি ঠিক থাকছে কিনা– এ ধরনের বিষয়ের দিকে প্রতিদিন একদল পর্যবেক্ষক নজর রাখেন।
তবে নদীর পানি পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের ধারেকাছে কেউ নেই। বর্জ্যপানি পরিশোধনে দেশটিকে বিশ্বে নেতৃস্থানীয় ধরা হয়। দেশটির সরকার প্রত্যেক বাসিন্দার কাছ থেকে গড়ে ২৩০ ডলার খরচ নেয় সবকিছু ঠিকঠাক রাখতে। এসবের জেরে বাসেল হয়ে উঠেছে ইউরোপের সবচেয়ে সাঁতারযোগ্য শহরগুলোর একটি। গ্রীষ্মের যে কোনো দিনে মানুষকে দেখা যায় পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়তে, শহরের ঝরনা থেকে পানি পান করতে।
তবে তাদেরও এ পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে। ১৯৮৬ সালে দেশটির রাইন নদীতে বিষাক্ত পদার্থ মিশে গিয়েছিল। পুরো নদী হয়ে উঠেছিল লাল। ওই ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসেন দেশটির কর্মকর্তারা। তারা বড় মাপে পরিবর্তন আনতে শুরু করেন দেশজুড়ে।
২০১৬ সালে সুইজারল্যান্ড পরিণত হয় বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র, যারা পানি থেকে রাসায়নিক দ্রব্য সরাতে রীতিমতো আইন পাস করে। এখন প্রতিবছর দেশটির শহরগুলোকে দেখা যাচ্ছে মাইক্রোপলিউট্যান্ট ট্রিটমেন্ট ফ্যাসিলিটিজ বাড়াতে। দেশটির প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা সরাসরি গণভোটের মাধ্যমে পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা ধরনের নীতি সামনে আনতে ভূমিকা রাখছেন।
তবে এই যে পানি পরিষ্কার হচ্ছে এবং পানিতে গোসল করা যাচ্ছে– এর মানে এই নয় যে, তা বাস্তুতন্ত্রের জন্যও উপযোগী হয়ে গেছে। সার্বিকভাবে এটি এখনও সে স্থানে পৌঁছায়নি বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সার্বিকভাবে দেখলে ভালোর দিকে যাত্রা শুরু করেছে বিষয়টি।
- বিষয় :
- পরিবেশ