বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের
ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শুক্রবার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। ছবি: সংগৃহীত
রয়টার্স
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩২
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে। শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এ শুল্কহার হবে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শুক্রবার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। এ ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্য এবং আগে থেকেই জাতীয় নিরাপত্তাজনিত শুল্কের আওতায় থাকা কয়েকটি পণ্য এর বাইরে থাকবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্পের আরোপ করা তথাকথিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ (রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ) বাতিল করে দেওয়ার পর প্রশাসন নতুন আইনি ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। এখন সময় এসেছে অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদারও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের। তার ভাষায়, নতুন শুল্ক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যচর্চা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে।
নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ ১৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট কার্যকর শুল্কহার ১০ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হবে।
বাকি ৩৮টি দেশের জন্য শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমসহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। যদিও বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, নতুন এই শুল্ক সেসব চুক্তিতে নির্ধারিত সর্বোচ্চ শুল্কসীমা অতিক্রম করবে না।
নতুন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে কয়েকটি দেশ। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে বলেন, নরওয়েতে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য ঠেকাতে স্পষ্ট আইন রয়েছে। তাই তাদের ওপর এ ধরনের শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই। অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলও শুল্ককে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। কানাডা জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর মওরা হিলি নতুন শুল্কের সমালোচনা করে বলেছেন, এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বাড়বে, প্রতিযোগিতা কমবে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, সেকশন ৩০১-এর আওতায় শুল্ক আরোপের নজির আগে থেকেই থাকায় নতুন এই সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- ডোনাল্ড ট্রাম্প
- শুল্ক আরোপ