ডাস্টবিন উপচে সড়কে আবর্জনা নাকে রুমাল চেপে চলাচল
ঈশ্বরদী পৌরসভার ফতেমোহাম্মদপুরের আবাসিক এলাকায় খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে ময়লা। তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী, শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়রা সমকাল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রথম শ্রেণির পৌরসভা ঈশ্বরদীর ফতেমোহাম্মদপুর এলাকায় খেলার মাঠ, ব্যস্ত সড়ক ও আবাসিক এলাকার পাশে স্থাপিত একটি ডাস্টবিন এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ডাস্টবিন উপচে ময়লা ছড়িয়ে পড়েছে সড়ক ও আশপাশের এলাকায়। তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী, শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়রা। অনেককে মুখে রুমাল চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১০ মাস আগে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফতেমোহাম্মদপুর রেলওয়ে হাসপাতাল মোড়সংলগ্ন সড়কের দক্ষিণ পাশে প্রতিদিন ময়লা ফেলা হলেও নিয়মিত অপসারণ না করায় ডাস্টবিনের চারপাশ এখন স্থায়ী ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। দুর্গন্ধের কারণে এলাকাটি প্রায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।
ময়লার স্তূপের পাশেই রয়েছে দুটি মাদ্রাসা, একটি মসজিদ এবং একটি খেলার মাঠ। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার আবাসিকে থাকা শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন দুর্গন্ধের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। একইভাবে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
খেলার মাঠে আসা কিশোর-তরুণদেরও একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
কয়েকজন অভিভাবক জানান, ময়লার দুর্গন্ধে শিশুদের মাঠে খেলতে দিতে ভয় লাগে। অনেক সময় তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে বা নাক-মুখ চেপে ক্লাসে যেতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ময়লার স্তূপ থেকে ছড়িয়ে পড়া মশা-মাছি আশপাশের বাসাবাড়িতে গিয়ে খাবার ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রে বসছে। এতে ডায়রিয়া, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন খান আল-আমিন বলেন, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে পৌর প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। দীর্ঘদিনেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সংবাদপত্র পরিবেশক মুরাদ হাসান বলেন, প্রায় এক বছর ধরে আবাসিক এলাকার মাঝখানে ময়লা জমে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধে মানুষ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছে না।
স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক নাসিম হোসেন বলেন, প্রতিদিন নতুন করে ময়লা ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে গরমের মধ্যেও দরজা-জানালা খুলে রাখা যায় না। অভিযোগ করার পরও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
অটোরিকশাচালক মোমিন হোসেন বলেন, দুর্গন্ধের কারণে অনেক যাত্রী এই সড়ক ব্যবহার করতে চান না। কেউ কেউ চলাচলের সময় বমিও করে ফেলেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১০ মাস আগে ওই স্থানে ময়লা ফেলা বন্ধের দাবিতে পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, তাঁর কাছে কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। তিনি জানান, পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেটি চালু হলে যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ হবে।
অন্যদিকে ঈশ্বরদী পৌরসভার প্রশাসক হাসান মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগে অভিযোগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে তাঁর জানা নেই। জনভোগান্তির বিষয়টি সত্য হলে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হয়েও আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠের পাশে ময়লার ভাগাড় তৈরি হওয়া পৌর ব্যবস্থাপনার বড় ব্যর্থতার পরিচয় বহন করে। তাদের দাবি, শুধু ডাম্পিং স্টেশন চালু করাই নয়, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, ডাস্টবিন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং বিকল্প স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
- বিষয় :
- আবর্জনা