হরিদাস চন্দ্র তরণীর স্ত্রীকে বের করে দিয়ে প্রমোদকুঞ্জে তালা
ফুলবাড়িয়ায় গত বুধবার হরিদাস চন্দ্র তরণীর প্রমোদকুঞ্জে তালা দিয়েছেন পাওনাদাররা সমকাল
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রতারণা মামলায় কারাগারে রয়েছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী। এই অবস্থায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ‘মাশাল্লাহ মঞ্জিল’ নামে তাঁর প্রমোদকুঞ্জে তালা দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার তাঁর স্ত্রী স্মৃতি আকতারকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন পাওনাদাররা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান।
জানা গেছে, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর দরিদ্র পরিবারে জন্ম হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের। পড়াশোনা ছেড়ে ভারতে প্রায় ৯ বছর থাকার পর দেশে ফিরে ঢাকার উত্তরা এলাকায় এসি মেকানিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে পুরোনো এসি বিক্রি ও মেরামতসহ বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। এক পর্যায়ে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস নিজেকে তাওহীদ ইসলাম পরিচয় দিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলার সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলামের মেয়ে স্মৃতি আকতারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ২০১৯ সালে বালিয়ান ইউনিয়নের বালাশ্বর ছাইতানতলায় চারতলা বিলাসবহুল একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। বেশ কিছু দিন তাঁর স্ত্রী স্মৃতি আকতার ও তাঁর পরিবার ‘মাশাল্লাহ মঞ্জিলে’ বসবাস করছিলেন। গত বুধবার বিকেলে তাদের বের করে দিয়ে তালা ঝুঁলিয়ে দিয়েছেন পাওনাদাররা।
এক সময় বিলাসবহুল বাড়িটি দেখার জন্য আসতেন কৌতূহলী মানুষ। কিন্তু এখন আসেন পাওনাদাররা। গতকাল বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল বাড়ির সামনে ভ্যানগাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন গোলাপ মোস্তফা নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান, ছয় বছর আগে তাঁর ছেলে ইসরাফিলকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাত লাখ টাকার চুক্তিতে এক লাখ টাকা নেন তাওহীদ (হরিদাস)। ছয় বছরে দুদফায় ৪০ হাজার টাকা দিলেও বাকি টাকা এখনও পাননি। তাঁর ভাষ্য, এক বছর আগে স্থানীয় দুলাল দোকানদার নামে একজন ২০ হাজার টাকা দেন। দুলালের মতো আরও কমপক্ষে ৫০ জনের একটি বাহিনী আছে তাওহীদের। যাদের সহায়তায় সব অপকর্ম করতে সাহস পেয়েছেন। তাদের আইনের আওতায় আনা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর স্মৃতি আকতার ও তাঁর পরিবার কোথায় চলে গেছেন এলাকার কেউ বলতে পারছেন না। এ কারণে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বালিয়ান ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বাবর আলী বলেন, স্মৃতি আকতার ও তাঁর পরিবার জানেনই না হরিদাস গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই বাড়িটি ময়মনসিংহের বড় বড় পাওনাদারদের লিখে দিয়েছেন। স্থানীয় পাওনাদাররা তালা লাগানোর পর স্ত্রী-সন্তানরা আত্মগোপন করেছেন।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান জানান, পাওনাদাররা গত বুধবার সকালে ময়মনসিংহে মানববন্ধন শেষে বিকালে বাড়িতে তালা ঝুঁলিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের একটি মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত ১২ জুলাই রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
- বিষয় :
- তালা