নানা নাটকীয়তার পর দিল্লিতে ‘ককরোচ’দের জয়
ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
শুভজিৎ পুততুন্ড, দিল্লি থেকে
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ২১:০৩ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ২১:৫৫
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও আন্দোলনকারীদের প্রায় সব দাবি নরেন্দ্র মোদির সরকার মেনে নেওয়ার আশ্বাসে টানা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
শনিবার নানা নাটকীয়তার পর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক এ ঘোষণা দেন সিজেপির দুই শীর্ষ মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় আজ সকাল থেকেই দিল্লির যন্তর মন্তরে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারীরা। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ একাধিক দাবিতে তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে সোচ্চার ছিলেন।
যদিও আগের দিন রাতে এনডিটিভিসহ ভারতের বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে অবাক করে দিয়ে শনিবার দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
পদত্যাগের পর ধর্মেন্দ্র সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘যন্তর মন্তরসহ সারাদেশে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, কোনো দেশবিরোধী শক্তি যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন পূর্ণমাত্রায় বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যৎও যেন দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন আবারও নিরাপদে পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে—এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।’

পরে বিকেলে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সংকটের বাকি বিষয়গুলো স্থায়ীভাবে মীমাংসা করতে কেন্দ্রীয় সরকারের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। সফল বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্দোলন চলাকালীন দিল্লি ও দিল্লির বাইরের বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা বা এফআইআর প্রত্যাহার করতে সরকার রাজী হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যা করা অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীর পরিবারকে এক কোটি রুপি করে সাহায্য ও ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন, দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের উদ্দেশ্যে যে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করা হয়েছে, সেখানেও বিচারপ্রক্রিয়া অতি দ্রুত চালু করার বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। পাশাপাশি সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় যুগোপযোগী পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সরকার আন্তরিকতা ও গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে।
এ সময় আন্দোলনকারীদের সুনির্দিষ্ট দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সিজেপির দুই মুখপাত্রকে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুরোধ জানান জেপি নাড্ডা। তার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সংবাদ সম্মেলনেই আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন সিজেপির দুই প্রতিনিধি। পরে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানরত সিজেপির ‘পোস্টার বয়’ খ্যাত অভিজিৎ দীপকে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
যদিও এর আগে যন্তর মন্তরের ধরনামঞ্চে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর ছড়াতেই বেশ কিছু নাটকীয়তা ও চরম অস্থিরতা তৈরি হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিক্ষোভকারীরা প্রথমে অবস্থান থেকে সরতে চাননি, কারণ সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তখনও আসেনি।

তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বার্তা আসার পর ধীরে ধীরে খালি হতে শুরু করে পুরো যন্তর মন্তর এলাকা। সংযোগকারী রাস্তাগুলো পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য আগের মতো উন্মুক্ত করে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। কয়েকদিন আন্দোলনের কারণে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিচ্ছন্ন করতে সিজেপির স্বেচ্ছাসেবক দল পুলিশের সঙ্গে কাজ শুরু করে। ফলে রাজধানী দিল্লির সার্বিক পরিস্থিতি আজ শনিবার সন্ধ্যার পর অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি নিজে এই আন্দোলনে সরাসরি যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়াতেই ব্যাকফুটে গিয়ে সব দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এতোদিন আন্দোলনে যোগ দেননি বলেই আন্দোলন সফল রূপ পাচ্ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিক কংগ্রেসসহ দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করার পাশাপাশি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জয়কে অভিনন্দন জানিয়েছে। শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে সিজেপির পোস্টার নেতাদের সরাসরি মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
- বিষয় :
- ককরোচ জনতা পার্টি
- দিল্লি