ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজার সৈকতে ১২ বছরে ১০৪৩ পর্যটক জীবিত উদ্ধার

কক্সবাজার সৈকতে ১২ বছরে ১০৪৩ পর্যটক জীবিত উদ্ধার
×

ছবি: সমকাল

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ২১:৪০ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ২১:৪১

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গত ১২ বছরে সিআইপিআরবির লাইফগার্ড সদস্যরা অন্তত ১ হাজার ৪৩ জন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সমুদ্র থেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। তবে প্রতিদিন সৈকতে আসা বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ লাইফগার্ড নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)।

বিশ্ব পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেলে কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সিআইপিআরবির ‘সিসেফ’ (SeaSafe) প্রকল্পের ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার হাফেজ আহমেদ। 

তিনি জানান, যুক্তরাজ্যের সুপরিচিত দাতা সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন (আরএনএলআই) এবং প্রিন্সেস শার্লিন অব মোনাকো ফাউন্ডেশনের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত সিসেফ প্রকল্পের আওতায় গত ১২ বছরে সমুদ্র থেকে ১,০৪৩ জনকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৯ হাজার শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সাঁতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং আনুমানিক ৫০ লাখের বেশি পরিদর্শনার্থী ও পর্যটকের মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে কার্যকর সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

হাফেজ আহমেদ আরও বলেন, সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত অর্থায়নে সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে লাইফগার্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো গেলে সমুদ্রসৈকতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুলাংশে কমে আসবে, যা দেশের পর্যটনশিল্পকে বিশ্বমঞ্চে আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করে তুলবে। 

অনুষ্ঠানে সিআইপিআরবির লাইফগার্ডদের বাস্তব উদ্ধার কার্যক্রম ও জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার (সিপিআর) আকর্ষণীয় জীবন্ত প্রদর্শনী, সচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা (র‌্যালি) এবং সৈকতে আসা পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষ প্রচারণা চালানো হয়। স্থানীয় সৈকত ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন প্রতিনিধি এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে-২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৩৯ জন শিশু পানিতে ডুবে করুণ মৃত্যুবরণ করে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ২৫ জুলাই ‘বিশ্ব পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। 

আরও পড়ুন

×