ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ট্রাস্টিবোর্ড নিয়ে দুপক্ষের বিরোধ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র দখলের চেষ্টা

ট্রাস্টিবোর্ড নিয়ে দুপক্ষের বিরোধ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র দখলের চেষ্টা
×

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ২২:১৪

সাভারের পাথালিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর এলাকায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে আদালতের রায় পেয়েছেন এমন দাবি করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দখল করতে যান ডা. নাজিম উদ্দিন ও তাঁর লোকজন।

তারা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করেন। বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী মারা যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী নারী পক্ষের প্রতিষ্ঠাতা নারী নেত্রী শিরিন পারভিন হক গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির হাল ধরেন। গঠন করেন নতুন ট্রাস্টিবোর্ড। এই ট্রাস্টিবোর্ডের তিনিই সভাপতি। কিন্তু এই ট্রাস্টিবোর্ডের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য ডা. নাজিম উদ্দিন।

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিবোর্ডের ৪ সদস্যের মধ্যে ৩জনই মারা গেছেন, শুধু ডা. নাজিম উদ্দিন জীবিত। ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী মারা যাওয়ার পর তিনিই এখন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনা করতে চাচ্ছেন।

বর্তমান ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য মঞ্জুর কাদির সমকালকে জানান, ডা. জাফর উল্লাহ জীবিত থাকাকালীন নানা দুর্নীতির কারণে ডা. নাজিম উদ্দিনকে তখনকার ট্রাস্টিবোর্ড থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। ট্রাস্টিবোর্ড নিয়ে উভয়পক্ষের মামলা চলমান রয়েছে। বর্তমান ট্রাস্টিবোর্ডের বিরুদ্ধে তিনি যে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এসেছেন তা আইনগতভাবে মোকাবেলা করা হবে। তিনি বলেন, ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী মারা যাওয়ার ৩ মাসের মধ্যেই গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দখল করেন ডা. নাজিম উদ্দিন ও তার লোকজন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ডা. নাজিম উদ্দিন ছাত্র-জনতার তোপের মুখে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যান। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কয়েক দফা চেষ্টা করেন দখল নিতে। কিন্তু এতেও ব্যর্থ হন ডা. নাজিম উদ্দিন।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. নাজিম উদ্দিন সমকালকে জানান, বর্তমানে যে ট্রাস্টিবোর্ড গঠন করা হয়েছে তা অবৈধ। তিনিই একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্ট্রি। ১৯৭২ সালে গঠিত ট্রাস্টিবোর্ডের ৪ সদস্যের মধ্যে তিনি অন্যতম। ৩ জন মারা গেছেন, শুধু তিনিই বেঁচে আছেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে বাদ দিয়ে তারা ট্রাস্টিবোর্ড গঠন করেছেন। আমি এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করেছি। গত ৫ জুলাই আমার পক্ষে আদালত রায় দিয়েছেন। তাদের গঠিত ট্রাস্টিবোর্ডের সব কার্যক্রমে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা  দিয়েছেন। আমি এখন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবো। কিন্তু আমি সেখানে গেলেই পুলিশ প্রশাসন দিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। গত ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট আমাকে মব করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছেন। পুলিশকে বললে বলে ওপরের নির্দেশ আছে।’

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম সমকালকে জানান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডা. নাজিম উদ্দিনসহ তার লোকজনকে দেখতে পান তিনি। পরে দুপক্ষকেই নিবৃত করা হয়। যেহেতু উভয়পক্ষের মধ্যে মামলা রয়েছে, তাই কে বৈধ আর কে অবৈধ আদালত ঠিক করবেন। আদালত রায় দিলে আইনের মাধ্যমেই আদলতই বৈধ ট্রাস্টির কাছে বুঝিয়ে দেবেন।

আরও পড়ুন

×