চাঁদার দাবিতে নারী কেয়ারটেকারকে জিম্মি
পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালালেন শুটার বাপ্পি
প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ২৩:২৩ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ২৩:৩৭
ভবন মালিকের কাছে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী শুটার বাপ্পি। চাঁদার টাকা নিতে গিয়ে না পেয়ে ভবনের নারী কেয়ারটেকারকে জিম্মি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ কেয়ারটেকারকে উদ্ধার করতে গেলে বাপ্পি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যান। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার দুপুরে ঢাকার আশুলিয়া থানার জামগড়া এলাকার চৌধুরী প্লাজায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঢাকা জেলা উত্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিন দিন আগে চৌধুরী প্লাজার মালিক শরীফ চৌধুরীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিলেন বাপ্পি। শনিবার সকালে চাঁদার টাকা নিতে ওই ভবনে যান। তিনি প্রথমে এক স্যানিটারি মিস্ত্রিকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন। এর পর ভবনের নারী কেয়ারটেকারকে তাঁর নিজ কক্ষে জিম্মি করে সেখানে টাকা খুঁজতে শুরু করেন। এ সময় ভবন মালিক লিমাকে ফোন করলে বাপ্পি আবার তাঁর কাছে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
জাহাঙ্গীর আলম আরও জানান, ভবন মালিক আশুলিয়া থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে জামগড়া ক্যাম্পের সদস্যসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা সেখানে যান। পুলিশ সদস্যরা ভবনে ঢুকলে বাপ্পি ছাদে কেয়ারটেকারের ঘরের ভেতর থেকে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি কেয়ারটেকারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দরজা খোলেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ কেয়ারটেকারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কৌশল অবলম্বন করে এবং তাঁকে নিরাপদে উদ্ধার করে। পরবর্তী সময় পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যান বাপ্পি।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার বাপ্পিকে গ্রেপ্তারে একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও বাপ্পিকে পুলিশ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছিল। জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় মামলা রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বাপ্পি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার উত্তর পারুলিয়া গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি জামগড়া এসে চাঁদাবাজি, মাদক পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। সূত্র আরও জানায়, চৌধুরী প্লাজার মালিক শরীফ চৌধুরীর সঙ্গে বাপ্পির সখ্য ছিল। তিনি আগে শরীফ চৌধুরীর সঙ্গেই চলাফেরা করতেন। তাঁর ভবনের পঞ্চম তলায় থেকেই মাদক পাচারসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতেন।
জানতে চাইলে শরীফ চৌধুরী বলেন, আমার সঙ্গে আগে সম্পর্ক ছিল। এখন কোনো সম্পর্ক নেই। সে একজন চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী।
- বিষয় :
- সাভার
- চাঁদা দাবি
- গুলিবিনিময়
- পুলিশ