ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

দেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে ১০০০ ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল

দেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে ১০০০ ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল
×

সংগৃহীত ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ২২:৩৮

দেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্প ‘সুখের খামার এগ্রো ভিলেজ’-এর এক হাজার ফাউন্ডারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সাফ কবলা জমির দলিল তুলে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অংশীদারেরা প্রকল্পের জমি, সমন্বিত খামার ও রিসোর্টের আইনি মালিকানার পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলেন বলে নিশ্চিত করেছে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে প্রকল্পটির প্রতিটি শেয়ারের প্রাতিষ্ঠানিক মূল্য ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ম্যারিয়ট কনভেনশন হলে আয়োজিত জমকালো ‘ফাউন্ডারস নাইট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম উপস্থিত ফাউন্ডারদের হাতে সাফি জমি রেজিস্ট্রি দলিল, প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার সনদ, চুক্তিপত্র এবং ‘সুখের খামার ফাউন্ডেশন’-এর আজীবন লাইফটাইম সদস্যপদ সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন।

উক্ত আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষিত তরুণ সমাজকে আত্মনির্ভরশীল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ ও পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশেও তরুণদের জন্য নানামুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সুখের খামারের মতো নতুন কমিউনিটিভিত্তিক উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেশে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব বলেন, আমাদের সম্মানিত ফাউন্ডাররা কেবল সাধারণ বিনিয়োগকারী নন, তাঁরা এই প্রতিষ্ঠানের সমান অংশীদার ও মূল প্রতিষ্ঠাতা। তাঁদের অনন্য বিশ্বাস ও আস্থার সঠিক মর্যাদা রক্ষা করাই আমাদের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার। 

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম বলেন, আমরা কেবল একটি সাধারণ খামার বা রিসোর্ট গড়ে তুলছি না; আমরা মূলত কৃষি, পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও গ্রামীণ সার্বিক উন্নয়নের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী টেকসই মডেল তৈরি করছি—যা অদূর ভবিষ্যতে একটি পুরো গ্রামের অর্থনীতি, সামাজিক মান ও স্থানীয় কর্মসংস্থানে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। 

আয়োজকদের ভাষ্যমতে, বগুড়ার কাহালু উপজেলার বাগইল গ্রামে ৩০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা প্রকল্পটির দৃশ্যমান অবকাঠামোগত অগ্রগতি ও সম্পদ মূল্যবৃদ্ধির কারণে চলতি জুলাই মাস থেকেই প্রতিটি শেয়ারের সার্বিক মূল্য ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠার মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই এই উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি অংশীদারদের আস্থারই এক বড় প্রতিফলন বলে দাবি করেন তাঁরা।

আয়োজকেরা আরও জানান, সম্পূর্ণ ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ‘মুশারাকা’ নীতিতে পরিচালিত এই প্রকল্পে অংশীদারেরা আইনসম্মত সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিসহ সামগ্রিক খামার ও রিসোর্টের যৌথ আইনি মালিকানা পাচ্ছেন, যা বাংলাদেশের উদীয়মান এগ্রো ট্যুরিজম শিল্পে একটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও স্বচ্ছ উদ্যোগ।

বগুড়ার কাহালু উপজেলার বাগইল গ্রামে ৩০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই 'সুখের খামার এগ্রো ভিলেজে' ইতিমধ্যে দুই হাজারের বেশি দর্শনার্থী ও পর্যটক ঘুরে গেছেন বলে জানিয়েছে এর কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি, এই প্রকল্পটি স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের পাশাপাশি বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও চরাঞ্চলের নারীদের ক্ষমতায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানের ১০০ কক্ষবিশিষ্ট বিলাসবহুল এগ্রো রিসোর্ট, একটি সুদৃশ্য জামে মসজিদ এবং একটি আধুনিক হাফেজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা নির্মাণের পরিকল্পনা ও রূপরেখা হাতে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×