রাওয়ার আলোচনা সভায় বক্তারা
জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ২২:৫১
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের সংগঠন রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (রাওয়া) আলোচনা সভায়। বক্তারা বলেন, অতীতের বিভাজন ও সংঘাত ভুলে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে জাতীয় সংহতি গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবের হেলমেট হলে রাওয়ার উদ্যোগে ‘ফিরে দেখা জুলাই-২০২৪’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাওয়া সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল হক (অব.) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম (অব.)। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আজমি (অব.), জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকবর কামাল (অব.), রাওয়ার নেতৃবৃন্দ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের স্বজন, আহত ব্যক্তিরা, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম (অব.) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আহতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং বিগত সরকারের আমলের বিভিন্ন বঞ্চনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করেছিল।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন সভা-সেমিনার আন্দোলনকে নৈতিক শক্তি জুগিয়েছে। ইতিহাস বিকৃতি রোধ করে নিরপেক্ষ, পেশাদার ও জনমুখী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আহত ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন শ্রেণিভেদে মাসিক সম্মানী ভাতা, গুরুতর আহতদের বিদেশে চিকিৎসা এবং তথ্যভান্ডার তৈরির মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল হক (অব.) বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান এবং ৫ আগস্টের সংকটময় সময়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার জন্য পুরো বাহিনীকে দায়ী না করে তাদের সামগ্রিক অবদান মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, অতীতের হানাহানি ভুলে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আজমি (অব.) বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে মানুষের ঐক্য একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। তবে বর্তমানে সেই ঐক্যে ভাঙনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সমাজের বিভিন্ন অংশকে একত্রে রাখার লক্ষ্য নিয়ে একটি অরাজনৈতিক ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য, দেশপ্রেমিক ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে জাতীয় ঐক্য জোরদারে কাজ করবে এই উদ্যোগ।
- বিষয় :
- আলোচনা সভা
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান