নেপালে বন্যা ও ভূমিধস
‘আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও আছে’
কেশভ প্রসাদ বারাল। ছবি: রয়টার্স
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪০
‘আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও আছে।’ নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে এমনই হৃদয়বিদারক কথা বলেছেন ৬৮ বছর বয়সী কেশভ প্রসাদ বারাল। খবর বিবিসির
বন্যায় আহত হয়ে একটি ছোট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বন্যার পানি বাড়িতে ঢোকার আগে তা ক্রমেই ওপরে উঠছিল। একপর্যায়ে কাদার বিশাল স্রোত তাঁদের বাড়ির দিকে ধেয়ে আসে।
কেশভ প্রসাদ বলেন, তিনি স্ত্রীকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রবল স্রোতে তাঁর হাত থেকে স্ত্রী ভেসে যান। পরে কাদা তাঁর বাড়ির ওপরের তলা পর্যন্ত উঠে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর কাদার স্রোত নেমে যায়।
তিনি বলেন, ‘চার-পাঁচ ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার আমাকে উদ্ধার করতে আসে। আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও চাপা পড়ে আছেন। তিনি আর নেই।’
বুধবার নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি হয়। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৪০৩ জন। তাঁদের অধিকাংশই বিদেশি পর্যটক বলে জানা গেছে।
নেপাল পুলিশের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এর মধ্যে রসুয়ায় একজন, নুয়াকোটে ১১, ধাদিংয়ে ১৮, চিতওয়ানে ৩৩, গোর্খায় ১৯, তানাহুঁতে সাত এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুর্যোগের পর নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।