ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপাল-চীনে দুর্যোগ

লাফিয়ে বাড়ছে নিখোঁজের সংখ্যা, হাসপাতালে মর্গে ঘুরছেন স্বজন

লাফিয়ে বাড়ছে নিখোঁজের সংখ্যা, হাসপাতালে মর্গে ঘুরছেন স্বজন
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৪ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

নেপাল-চীন দুর্যোগের পর নিখোঁজের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গতকাল সোমবারের হিসাব অনুসারে, চার হাজার ৭৯৩ জন এখন নিখোঁজ দুই দেশ মিলিয়ে; নিখোঁজ বেশির ভাগই নেপালের। অথচ এক দিন আগেও এই সংখ্যা ছিল তিন হাজারের ঘরে। নিহতের সংখ্যাও বেড়ে ৯০০-তে গিয়ে ঠেকেছে।

উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখেও পড়ছেন উদ্ধারকারীরা। নেপালে উদ্ধার অভিযান সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ই. হাওয়াদি বলেন, ‘অনেক চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। কোনো সড়ক নেই, সব ধুয়েমুছে গেছে এবং অনেক এলাকায় প্রবেশের কোনো পথ খোলা নেই।’

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, অনেক এলাকা এখনও বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অন্যান্য স্থানে মাটি নরম কাদামাটিতে পরিণত হয়েছে। শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না– এ রকম মরদেহও পাওয়া যাচ্ছে প্রচুর। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে গণকবরে সমাহিত করা হচ্ছে সেসব। এদিকে, স্বজনের খোঁজ পেতে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরছেন বহু মানুষ। গতকাল এ রকম কয়েকজনের ঘটনা প্রকাশ করেছে নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।

ভাইয়ের খোঁজে কয়েক দিন ধরে ঘুরছেন রাম বুধা। তিনি গত মঙ্গলবার ছোট ভাই প্রবীণকে রাসুয়ায় কর্মস্থলে রেখে যান। কাঠমান্ডু যাওয়ার পর বন্যার খবর পান তিনি। এরপর তড়িঘড়ি করে ফিরে এসেও আর ভাইয়ের খোঁজ পাননি তিনি। ত্রিশূলী-১ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পে কাজ করছিলেন প্রবীণ।
রাম বুধা জানান, ফিরে এসে হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের সুড়ঙ্গেও প্রবেশের চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর ধারণা ছিল, ভাই হয়তো ভেতরে আটকে আছে। কিন্তু কিছুদূর গিয়ে কাদামাটির চাপের কারণে ফিরতে হয় তাঁকে। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে দাঁড়িয়ে ভাইয়ের নাম ধরে চিৎকার করেছি; ভেবেছি, সে হয়তো সাড়া দেবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষাও করেছি; কিন্তু কোনো উত্তর আসেনি। আমার কোনো ধারণাই নেই সুড়ঙ্গের ভেতরে কী পরিস্থিতি!’ মা-বাবা বাড়িতে অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি। 

কাঠমান্ডু পোস্টের খবর বলছে, রাম শুধু একজন; এ রকম হাজার হাজার মানুষ স্বজনের খোঁজে কর্নালি, সুদূর পশ্চিম, মধেশের মতো দুর্গম গ্রামগুলোতে ঘুরছেন। অনেকে আবার ঘুরছেন রাসুওয়া, নুয়াকত, চিতওয়ান, নাওয়ালপুর, তানাহুন ও পোখারায়। কেউবা আবার ছোটাছুটি করছেন এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে, এক মর্গে থেকে আরেক মর্গে, উদ্ধার কেন্দ্রগুলোতে।
তারা স্বজনের ছবি নিয়ে ঘুরছেন। এই ব্যক্তিরা জানেন না, তাদের স্বজনরা বেঁচে আছেন, নাকি প্রাণ হারিয়েছেন পানির তোড়ে। এসব পরিবারের জন্য অনিশ্চয়তা হয়ে উঠেছে নির্যাতনের মতো। নেপালের তুলসীপুর থেকে পোখারায় এসে স্বামীকে খুঁজতে দেখা যায় সারিতা চৌধুরীকে। বন্যার এক দিন আগে স্বামী সুনীলের সঙ্গে কথা হয় তাঁর। সে সময় সুনীল তাঁকে বলেছিলেন, হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পে তাঁর কাজ অনেক কঠিন। তিনি নদী ও স্রোত নিয়ে ভীত। সারিতা সে সময় তাঁকে বাড়ি ফেরার জন্য অর্থ পাঠাতে চাইলেও সুনীল সন্তানদের কথা ভেবে রাজি হননি। 

আরও পড়ুন

×