ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুতিনের ভারত সফরে ‘ডুমসডে প্লেন’ নিয়ে যত আলোচনা

পুতিনের ভারত সফরে ‘ডুমসডে প্লেন’ নিয়ে যত আলোচনা
×

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৫৯

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে ভারত গেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার এই সফর ঘিরে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নজর কেড়েছে পুতিনের বিশেষভাবে সুরক্ষিত সরকারি উড়োজাহাজ—ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ। নিরাপত্তার কারণে উড়োজাহাজটি ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ বা ‘ডুমসডে প্লেন’ নামেও পরিচিত।

পুতিন উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারত সফরে যান। বিশ্বের সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত রাষ্ট্রপ্রধানদের একজন হিসেবে তার সফরেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুতিনের বহরে থাকা দুটি দেখতে একইরকম উড়োজাহাজ একই সময়ে আকাশে উড়ে। এর একটিতে থাকেন রুশ প্রেসিডেন্ট, অন্যটি থাকে বিভ্রান্তিমূলক বা ডিকয় বিমান হিসেবে। ফলে কোন উড়োজাহাজে পুতিন রয়েছেন, তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রপ্রধানের নিরাপত্তায় এই কৌশল ব্যবহার করে আসছে। বিদেশ সফরের সময়ও পুতিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পুতিনের সরকারি উড়োজাহাজটি রুশ নির্মাতা ইলিউশিনের তৈরি আইএল-৯৬-৩০০ উড়োজাহাজের বিশেষভাবে পরিবর্তিত সংস্করণ। ১৯৮০-এর দশকে ইলিউশিন ডিজাইন ব্যুরো এটি তৈরি করে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের জন্য এটিকে অত্যন্ত সুরক্ষিত উড়ন্ত কমান্ড সেন্টারে রূপ দেওয়া হয়।

চার ইঞ্জিনের দীর্ঘপাল্লার এই উড়োজাহাজে রয়েছে অ্যাভিয়াডভিগাতেল পিএস-৯০এ টার্বোফ্যান ইঞ্জিন। একবার জ্বালানি নিয়ে এটি প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। ফলে দীর্ঘ যাত্রায় বারবার জ্বালানি নেওয়ার প্রয়োজন কমে যায়।

উড়োজাহাজটির দৈর্ঘ্য ৫৫ দশমিক ৩৫ মিটার এবং ডানার বিস্তার ৬০ দশমিক ১২ মিটার। রাশিয়ার বিশেষ ফ্লাইট স্কোয়াড্রন এটি পরিচালনা করে। এই স্কোয়াড্রনই রুশ প্রেসিডেন্টের বিদেশ ও অভ্যন্তরীণ সফরের উড়োজাহাজ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

আকাশেই ‘মোবাইল কমান্ড সেন্টার’
জরুরি বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আইএল-৯৬-৩০০পিইউকে একটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে এমন নিরাপদ ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে সামরিক, গোয়েন্দা ও সরকারি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব।

উড়োজাহাজটিতে রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি ও উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও রয়েছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং সুরক্ষিত রেডিও ও ডেটা চ্যানেল রয়েছে, যা সংকটের মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করে।

নিরাপত্তার পাশাপাশি বিলাসিতাও
শুধু নিরাপত্তা নয়, বিলাসিতার দিক থেকেও বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে পুতিনের এই উড়োজাহাজ। এতে রয়েছে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত স্যুট, শয়নকক্ষ, বিলাসবহুল বাথরুম, ব্যক্তিগত রান্নাঘর ও খাবারের জায়গা। রয়েছে বড় আকারের সম্মেলনকক্ষও, যেখানে বোর্ডরুমের মতো করে বৈঠকের ব্যবস্থা করা যায়।

উড়োজাহাজের অভ্যন্তরে রয়েছে সোনালি কারুকাজ, উন্নতমানের কাঠের কাজ, দামি চামড়া ও বিলাসবহুল আসবাব। সব মিলিয়ে এটি একই সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের নিরাপদ আকাশযান, চলমান কমান্ড সেন্টার এবং বিলাসবহুল সরকারি কার্যালয় হিসেবে কাজ করার জন্য তৈরি।

ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে পুতিনের ভারত সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা বিষয় আলোচনায় থাকলেও, তার এই বিশেষায়িত উড়োজাহাজও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলাদা করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন

×