‘কখনোই, কোনোভাবেই ভুলব না’—যেভাবে ৯/১১-এর ২৫ বছর স্মরণ করল যুক্তরাষ্ট্র
৯/১১ হামলার বার্ষিকী পালনের দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স
বিবিসি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিহতদের স্মরণ করেছে দেশটি। হামলায় নিহত প্রায় ৩ হাজার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এসব আয়োজনে অংশ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক প্রেসিডেন্টরা।
শুক্রবার পেন্টাগনে আয়োজিত স্মরণসভায় নেতৃত্ব দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, জো বাইডেন, বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটন এবং তাদের স্ত্রীরা।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ছিনতাই করা চারটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের মধ্যে দুটি নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। আরেকটি আঘাত হানে পেন্টাগনে। চতুর্থ উড়োজাহাজটি পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
হামলার সময়গুলো স্মরণ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নীরবতা পালন করা হয়। পাশাপাশি নিহতদের নাম পাঠ করে শোনানো হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আকাশে জ্বালানো হয় দুটি আলোকরশ্মি। ‘ট্রিবিউট ইন লাইট’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবছর এই আলোকরশ্মি জ্বালানো হয়। এ ছাড়া নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন স্থাপনাও নীল আলোয় আলোকিত করা হয়।
পেন্টাগনের স্মরণসভায় ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের পাশাপাশি ৯/১১-এর সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা কনডোলিজা রাইসের সঙ্গে অংশ নেন।
স্মরণসভায় ট্রাম্প বলেন, ২৫ বছর আগে নিহতদের স্মরণে যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা আবারও করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘আমরা কখনোই, কোনোভাবেই ভুলব না।’
৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রসঙ্গও টানেন ট্রাম্প। তিনি ওই যুদ্ধের সঙ্গে বর্তমানে ইরানে চলমান মার্কিন সামরিক সংঘাতের একটি যোগসূত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেন। ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা মধ্যপ্রাচ্যে বহু বছর ধরে অব্যাহত ছিল।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই, কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।’
২৫ বছর আগে আল-কায়েদার সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে ওই সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলায় নিহত হন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। হামলার পর বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে এবং যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ে।