তেল রপ্তানির পথ অস্থির, মিসরের সমর্থন চাইছে সৌদি
সৌদি যুবরাজকে মিসরে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি। মঙ্গলবার কায়রোতে। ছবি: এসপিএ/এএফপি
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:১৪
সৌদি আরবের স্থাপনা ও লোহিত সাগরে চলাচল করা জাহাজে নিয়মিত হামলা করছে হুতিরা। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসির সমর্থন চেয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
মিসর লোহিত সাগরের কাছে সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণকারী দেশ। মঙ্গলবার কায়রোতে এল-সিসির সঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমান বৈঠক করেছেন। এক বিবৃতিতে যুবরাজ বলেছেন, বৈঠকে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
অপরদিকে মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় পৃথক বিবৃতিতে সৌদির প্রতি অবিচল সমর্থনের কথা জানিয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা কোনো পক্ষই সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেনি।
কায়রোর পক্ষে রিয়াদকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা কম। তারা গত তিন বছর ধরে আঞ্চলিক অস্থিরতায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইরান ও তাদের মিত্রদের সঙ্গেও মিসর সম্পর্ক বজায় রাখে।
হুতিরা তেহরানের অন্যতম বড় মিত্র। সম্প্রতি ইয়েমেনে তারা বড় ধরনের লক্ষ্য অর্জন করেছে। লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা ও বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তাদের এই সাফল্য সৌদি আরবকে বিপাকে ফেলেছে, বিশেষ কর তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে।
এতদিন হুতিদের বিরুদ্ধে রিয়াদ বৃহৎ পরিসরে অভিযান চালায়নি। তাদের আশঙ্কা ছিল গোষ্ঠীটি পাল্টা পদক্ষেপ অব্যাহত রাখলে তেল স্থাপনার আরও ক্ষতি হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সৌদিকে সামরিক অভিযান জোরদার অথবা কূটনৈতিক সমাধানের যেকোনো একটি পথ বেছে নেওয়ার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
সৌদির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের বিস্তৃতি বাড়াতে অনিচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে। হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাতও যুদ্ধ থেকে সরে গেছে।
এ অবস্থায় মিসর কতটা সহায়তা করতে পারে, তা নিয়ে সংশয় আছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর আমেরিকান প্রোগ্রেসের জ্যেষ্ঠ ফেলো এইচ এ হেলিয়ার বলছেন, ‘আমি মনে করি না এমবিএস (মোহাম্মদ বিন সালমান) কায়রোর কাছে সেনা চাইবেন। তিনি নিজেও জানেন এমন অনুরোধ রাখা খুবই কঠিন।’
হেলিয়ার বলেন, সেনা সরবরাহের পরিবর্তে কায়রো রিয়াদকে রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ে সহায়তা করতে পারে। কারণ, বাব এল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দীর্ঘদিন জিম্মি করে রাখা ঠেকাতে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য আছে।
তবে ইয়েমেনে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে কিছু দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে কাজ করতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এমবিএস ২০১৫ সালে একটি জোট গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে কয়েক বছরের মাথায় সেটির বড় অংশ ভেঙে যায়।
হেলিয়ার বলেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক ভালো পরিকল্পনা আছে বলে, সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করছে সৌদি। কিন্তু তাতে কতজন বিশ্বাস রাখবে সেটাই মূল বিষয়।