ইসরায়েলের নির্বাচনে কাতারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ লিকুদের
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৩৫ | আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
ইসরায়েলের নির্বাচনে কাতারের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। তাদের সন্দেহ দোহা আরব দলগুলোকে অর্থায়নের মাধ্যমে ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। বিষয়টি তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকে অনুরোধ করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি (সিইসি)।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার হিব্রু ভাষার একাধিক গণমাধ্যম লিকুদ পার্টির অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরপর শিন বেত বিষয়টি সিইসিতে জানায়। সংস্থাটির চেয়ারম্যান নোয়াম সলবার্গ পরে তদন্তের অনুরোধ করেন। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগও অভিযোগগুলো তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আরব-ইসরায়েলি সম্প্রদায়ের সবাইকে যেন এ অভিযোগের কারণে কলঙ্কিত করা না হয়।
কাতার এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, ইসরায়েলের কয়েকজন রাজনীতিক ও গণমাধ্যমে তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে অভিযোগটি তোলা হয়েছে। পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কায় নেতানিয়াহুর শিবির কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করেছে।
হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত ৯৭ শতাংশ ভোট গণনা হলেও স্পষ্ট কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আংশিক ফলে পার্লামেন্টে আরব ব্লকের দুটি দলের (রাআম, জয়েন্ট লিস্ট) শক্তিশালী অবস্থানের আভাস পাওয়া গেছে। তারা সরকার গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। এমন সময় নেতানিয়াহু শিবির থেকে কাতারকে নিয়ে অভিযোগ উঠল।
রাআমের প্রধান মানসুর আব্বাস অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। জয়েন্ট লিস্ট বলেছে, এসব অভিযোগ নেতানিয়াহুর ভয়ের প্রকাশ। আর কাতারের মুখপাত্র আল-আনসারি বলেন, ‘দোহার বিরুদ্ধে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইসরায়েলের রাজনৈতিক বামপন্থি এবং এখন নির্বাচনী প্রচারে আরব ভোটারদের কিনে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এগুলো হাস্যকর ও বিপজ্জনক।’
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারসংশ্লিষ্ট অভিযোগ নিয়ে নেতানিয়াহু নিজেও বিতর্কের মধ্যে আছেন। গত বছর দোহার কাছে থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। নেতানিয়াহু বছরের পর বছর ধরে পরোক্ষভাবে হামাস-শাসিত গাজার জন্য কাতারের অর্থায়নকে সমর্থন দিয়ে এসেছেন। তাঁর আশা ছিল, এর মাধ্যমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। গতকাল তিনি বলেন, আইন মেনেই ভোট গ্রহণ হয়েছে এবং তাদের জানামতে, পদ্ধতিগত অনিয়মের কোনো প্রমাণ নেই।
আরব-ইহুদি জোট দাবি
সরকার গঠনে আলোচনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। এর মধ্যেই আরব দল ও ইহুদিদের সমন্বয়ে সরকার গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বামপন্থি কর্মীরা। গত বুধবার রাতে রাজধানী তেল আবিবে কয়েকশ কর্মী জড়ো হয়ে এই দাবি জানান। তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এএফপির প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে।
এর আগে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট ‘চেঞ্জ ব্লকের’ শরিক দল ডেমোক্র্যাটসের নেতা ইয়ার গোলান আরব ব্লকের সঙ্গে সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার তিনি জোটের আরেক দল টুগেদার পার্টির ইয়ার লাপিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘প্রতিটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে এবং অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পরিবর্তনের সুযোগ হাতছাড়া করব না।’
সমীকরণে ইরানে হামলা
ইসরায়েলে সরকার গঠনের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে– এমন একটি বিষয় হলো ইরানে হামলা। নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু বারবার এমন হুমকি দিয়েছেন। তাঁর মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি হামলা চালাতে প্রস্তুত।
এ অবস্থায় চেঞ্জ ব্লকের নেতা গাদি আইজেনকোট সামরিক বাহিনীকে সতর্ক করে বলেছেন, নেতানিয়াহুর এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো ‘ম্যান্ডেট’ নেই। কর্মকর্তাদের অবশ্যই নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রয়োজনের চেয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ইরানে হামলা হলে আইজেনকোটের ওপর ‘জরুরি জাতীয় ঐক্যের সরকারে’ যোগ দেওয়ার চাপ বাড়তে পারে। তবে তিনি প্রকাশ্যে এমন সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ কাকে দেওয়া হবে, তা আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর নির্ধারণ করবেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। যা আগামী ৪ নভেম্বর প্রকাশ হতে পারে।
- বিষয় :
- ইসরায়েল