এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানো সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বিজ্ঞপ্তি
ফাইল ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৫৪ | আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৩৫
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন।
শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মিশন জানায়, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের নির্ধারিত সময়সীমা ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে পিছিয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যসুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা হারানোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাবে। মিশনের বিবেচনায়, এটি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সরকার গঠনের পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন করে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে এ আবেদন করা হয়েছিল।
বাংলাদেশের আবেদনের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে সরকার তিন বছরের একটি কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করে। এতে প্রতিবছরের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। বর্ধিত সময়ে কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশের আবেদনের পক্ষে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) সুপারিশ করার পর গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠায়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগিতামূলক, বহুমুখী ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো এখন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেন, বাংলাদেশ শুধু আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার কারণে এলডিসি থেকে উত্তরণ করছে না, বরং এটি বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা। এটি একটি জাতীয় অপরিহার্যতা এবং সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।