খালেদার প্রতিহিংসায় গচ্চা ১০ হাজার কম্পিউটার: প্রধানমন্ত্রী
ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:২৮ | আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:২৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতিহিংসার কারণেই দেড় যুগ আগে চুক্তি করেও নেদারল্যান্ডসের একটি কোম্পানির ১০ হাজার কম্পিউটার পায়নি বাংলাদেশ। উপরন্তু সরকারকে ৩২ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিকের সঙ্গে কোম্পানির নামের মিল থাকায় বিএনপি নেত্রী ওই কাজ করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসস, ইউএনবির
১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের শেষ দিকে নেওয়া ওই প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে একটা দুঃখজনক ঘটনা না বলে পারছি না। আমরা চাইলাম কম্পিউটার আমাদের স্কুলের ছেলেমেয়েদের দেব। আমার আগ্রহ দেখে নেদারল্যান্ডস সরকার এগিয়ে এলো। আমাকে বলল, তারা অর্ধেক দামে দেবে। অর্ধেক তারা অনুদান দেবে, অর্ধেক দাম আমরা দেব। সেইভাবে দশ হাজার কম্পিউটার তারা আমাদেরকে দেবে। আমাদের সঙ্গে অন্যান্য সংস্থাও এলো। তারাও অর্থ সহায়তা দিল। এই কম্পিউটার কিনব বলে নেদারল্যান্ডস সরকারের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হল। সবকিছু ঠিক হয়ে গেল, টাকা পয়সা দেওয়া হল।'
কিছুদিন পর আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় নেয় এবং ক্ষমতায় আসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। শেখ হাসিনা বলেন, 'আপনারা জানেন, নেদারল্যান্ডসের জাতীয় ফুল হচ্ছে টিউলিপ। টিউলিপ ফুলটা ওদের দেশে খুব ভালো হয়। খালেদা জিয়াকে বুঝালো আমরা যে কোম্পানির (কম্পিউটার) কিনব, তার নাম টিউলিপ। এই টিউলিপ নাম নিয়ে হল বিভ্রান্তি।
তিনি বলেন, 'কি বিভ্রাট? সেটা হল খালেদা জিয়াকে বোঝানো হল যে শেখ রেহানার মেয়ের নাম টিউলিপ, নেদারল্যান্ডের ওই কোম্পানির নামও টিউলিপ। যেহেতু এই কোম্পানির নাম টিউলিপ কাজেই ওদের থেকে কম্পিউটার নেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র এখানে অপরাধটা হল শেখ রেহানার মেয়ের নাম টিউলিপ আর নেদারল্যান্ডের কোম্পানির নামও টিউলিপ। সেজন্য সেটা বন্ধ করে দিল।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ কোম্পানি বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করল। সেই মামলায় বাংলাদেশ হারল। দশ হাজার কম্পিউটার তো গেলই, ৩২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণও দিতে হল। এক নামের প্রতি খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বাংলাদেশকে ৩২ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হল। আর টিউলিপকে যে টাকাটা আমরা দিয়েছিলাম তাও গেল। এভাবে সমস্ত লোকসান হল।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে তার সরকার যতটুকু এই ডিজিটাইজড বা কম্পিউটার শেখানোর ব্যবস্থা করে গিয়েছিল সেটা ওখানেই বলতে গেলে থেমে গেল। ২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, 'ছিয়ানব্বই সালে যখন সরকারে এসেছিলাম তখন দেখতাম কেউ কম্পিউটার ব্যবহার করে না। মোবাইল ফোন তো কারও হাতে ছিলই না। বিএনপি সরকারের একজন মন্ত্রী ছিলেন তার মোবাইল ফোনের ব্যবসা ছিল বলে ওই একটা কোম্পানিই ব্যবসা করত। বাংলাদেশ আর কোনো কোম্পানি ব্যবসা করতে পারবে না- এটা একটা অলিখিত অঘোষিত ঘটনা।'
ছিয়ানব্বই সালে সরকারে এসে মোবাইল ফোন বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কম্পিউটার কেউ তখন ব্যবহারই করত না। অনেক অফিসে একটা ডেক্সটপ সাজিয়ে রাখা হত। কিন্তু কেউ ওটায় হাত দিত না এমন একটা অবস্থা ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সজীব ওয়াজেদ জয় বলল, তুমি যদি এটা (ডিজিটাল বাংলাদেশ) করতে চাও মা, তাহলে (কম্পিউটার ও কম্পিউটার সরঞ্জামের ওপর) ট্যাক্স কমিয়ে দিতে হবে। এটার দাম কমাতে হবে এবং শিক্ষার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ২০০৯ এ আবার সরকারে আসার পর আমরা উদ্যোগ নিলাম। আজকে সত্যিই আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।'
এদিন উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলো হল- চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে কাপ্তাইয়ে লেকে স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ গবেষণা তরী (রিসার্চ ভেসেল), গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে 'ফোর টায়ার ন্যাশনাল ডেটা সেন্টার', পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের অধীনে প্রদত্ত সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন পাঁচটি জাহাজ।
প্রধানমন্ত্রী এসব উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব প্রকল্প দেশের জনগণের বিশেষ করে প্রকল্প আওতাধীন স্থানীয় জনগণের জীবন-মানের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এ সময় তিনি ভিডিও কনফারেন্সে স্থানীয় সুবিধাভোগী, শিক্ষার্থী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুল উশৈ সিং, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মেজর (অব:) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- প্রধানমন্ত্রী
- শেখ হাসিনা