ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কোলে ঘোড়ার সমান ভার নিয়ে বিশ্বরেকর্ড

কোলে ঘোড়ার সমান  ভার নিয়ে বিশ্বরেকর্ড
×
×

ঘোড়ার সমান ভার, ৩৭৩.৯৫ কেজি ওজন নিয়ে বিশ্বরেকর্ড করলেন অধুরিম ক্রিয়েজিউ

শাহেরীন আরাফাত

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫০ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেয়ালের সঙ্গে শক্ত করে পিঠ ঠেকানো। হাঁটু দুটি ৯০ ডিগ্রি কোণে বাঁকানো। দৃশ্যত মনে হবে, বাতাসের ওপর কোনো অদৃশ্য চেয়ারে ভেসে আছেন এক যুবক। সাধারণ চোখের এই দৃষ্টিভ্রমের আড়ালে লুকিয়ে রয়ছে এক তীব্র, রক্ত হিম করা সত্য। কারণ সেই তরুণের কোলে তখন চেপে বসেছে এক বিশালাকার পূর্ণবয়স্ক ঘোড়ার সমতুল্য ভার–৩৭৩.৯৫ কেজি (৮২৪.৪১ পাউন্ড) ওজন!

উপস্থিত মানুষের থমকে যাওয়া শ্বাস, বুকের ভেতর হাতুড়ি পেটার মতো ধুকপুকানিতে সময় যেন স্থবির হয়ে দাঁড়িয়েছিল কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনার একটি ব্যায়ামাগারে। ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্বর্ণাক্ষরে খোদাই হয়ে গেল এক নির্ভীক নাম–অধুরিম ক্রিয়েজিউ।

ক্রীড়াবিশ্বে ‘স্যামসন্স চেয়ার’ বা স্ট্যাটিক ওয়াল সিট ব্যায়ামটি কেবল দৈহিক শক্তির পরীক্ষা নয়; এটি মূলত স্নায়ু, রক্তপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক সহনশীলতার এক কঠিন শৃঙ্খলা। দেয়ালের সঙ্গে হেলান দিয়ে শূন্যে বসার এ ভঙ্গিমায় শরীর যখন স্থির থাকে, তখন শরীরের সব ভারসাম্য ধরে রাখতে হয় কেবল থাই বা উরুর চারপাশের পেশি এবং পেটের কেন্দ্রস্থলকে। সাধারণ মানুষের জন্য নিজের দৈহিক ওজন নিয়ে এক মিনিট এভাবে থাকাটাই যেখানে দুঃসাধ্য, সেখানে অধুরিম ক্রিয়েজিউ তাঁর নিজ শরীরের ওজনের প্রায় চার গুণ ভার কোলের ওপর ধরে রেখে স্থির দাঁড়িয়ে রইলেন। উরুর প্রতিটি টিস্যু তখন তীব্র দহনে পুড়ছিল, রক্তচাপ পৌঁছাচ্ছিল সর্বোচ্চ সীমায়, কিন্তু তাঁর মুখের রেখায় ফুটে উঠছিল এক অনমনীয় শৃঙ্খলার ছবি।

অধুরিম ক্রিয়েজিউ সাধারণ কোনো ফিটনেস অনুরাগী নন; তিনি কসোভো সিকিউরিটি ফোর্সের (কেএসএফ) একজন নিবেদিতপ্রাণ সেনা কর্মকর্তা। সামরিক অনুশাসন, কঠোর জীবনযাত্রা এবং নিয়মিত শারীরিক কসরত তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেবল রুটিন অনুশীলনে আটকে থাকার পাত্র তিনি নন।

নিজের এই অভূতপূর্ব অর্জন সম্পর্কে অধুরিম বলেন, ‘নিজের সীমারেখা ভাঙা এবং মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার শেষ বিন্দু স্পর্শ করাই আমার মূল প্রেরণা। স্যামসন্স চেয়ারের বিশ্বরেকর্ডের কথা যখন প্রথম জানতে পারি, তখনই মনে হয়েছিল– এটি কেবল নিজের শক্তি পরখ করার সুযোগ নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে মাতৃভূমি কসোভোর প্রতিনিধিত্ব করার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।’

৩৭৩.৯৫ কেজির নির্মম চাপ যখন পা দুটোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে চায়, তখন যুদ্ধটা আর কেবল হাড় ও মাংসপেশির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা রূপান্তরিত হয় এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক সংগ্রামে। মানব মস্তিষ্ক যখন ব্যথায় চিৎকার করে হাত-পা ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানায়, ঠিক তখনই প্রয়োজন হয় অতিমানবীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের।

সেই অনুভূতির বিবরণ দিতে গিয়ে কসোভোর এই সেনানায়ক বলেন, ‘অনুভূতিটা ছিল অবর্ণনীয়ভাবে তীব্র। প্রতিটি সেকেন্ড ছিল একেকটি মানসিক যুদ্ধ। শরীর যখন প্রাকৃতিকভাবেই এ নরকতুল্য যন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি পেতে আকুতি জানায়, তখন নিজের শ্বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ করে মনকে পুরোপুরি শান্ত রাখা এবং হাল না ছাড়ার সংকল্প ধরে রাখাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

এই অমানুষিক শারীরিক লোড এক দিনে অর্জিত হয়নি। এর পেছনে রয়েছে মাসের পর মাসজুড়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, বৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাস এবং ধীরে ধীরে ভার বাড়ানোর শৃঙ্খলিত সাধনা। সুরক্ষার পূর্ণ বিধান মেনে শরীরের প্রতিটি পেশিকে এই অত্যধিক ওজনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছে।

আরও পড়ুন

×