ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নীলচক্রের পর মন্দিরা

নীলচক্রের পর মন্দিরা
×

মন্দিরা চক্রবর্তী। ছবি-ফেসবুক থেকে নেওয়া

আব্দুল্লাহ আল মামুন

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ | ১০:৫৭

ছোটবেলায় আয়নায় নিজেকে দেখেই ভাবতেন– একদিন হবেন নায়িকা। বন্ধুদের কাছেও ছিলেন নায়িকাদের মতোই। বাস্তবের পথটা যদিও সহজ ছিল না, কিন্তু স্বপ্নের আকাশে ডানা মেলতে বাধা হয়নি তাঁর। নাচ দিয়ে যাত্রা শুরু, অভিনয়ের মঞ্চে এখন তিনি পুরোপুরি চিত্রনায়িকা। বলছি মন্দিরা চক্রবর্তীর কথা– যিনি ‘কাজলরেখা’ দিয়ে পরিচিতি পেলেও, ‘নীলচক্র’ দিয়ে আলোচনায় এলেন ঢাকাই ছবির নতুন মুখ হয়ে।

গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘কাজলরেখা’তে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে প্রমাণ করেছিলেন, শুধু নাচ নয় অভিনয়েও পারেন মাত করতে। এরপর আরেফিন শুভর সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘নীলচক্র’-এ হাজির হন ঈদুল আজহায়। মুক্তির পরপরই ছবিটি দেশজুড়ে প্রশংসা কুড়ায়, আর মন্দিরার হাতে আসতে শুরু করে নতুন নতুন সিনেমার প্রস্তাব। নীলচক্রের মুক্তির রেশ কাটতে না কাটতেই মন্দিরা জানালেন, নীলচক্র মুক্তির পর এ পর্যন্ত অর্ধডজন সিনেমার প্রস্তাব এসেছে।  এই সংখ্যাটা শুধু পরিমাণে নয়, মানেও সমৃদ্ধ। চারটি ছবিতে ভাবা হয়েছে শরিফুল রাজকে নায়ক হিসেবে, বাকি তিনটির গল্পে প্রথম সারির নায়করা। যদিও কোন ছবিটি দিয়ে শুরু করবেন, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত নন মন্দিরা। বলেছেন, ‘ভেবেচিন্তে কাজ করতে চাই। যে কাজটি করব, সেটি যেন দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়।’ এদিকে নীলচক্র দেখার পর দর্শকেরও মন্দিরার প্রতি কিছু প্রত্যাশা বেড়েছে। তাদের মতে, মন্দিরা সুন্দরী ও আবেদনময়ী– এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।  মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার একজন নায়িকার মধ্যে যা যা থাকা দরকার, মন্দিরার মধ্যে সেগুলোর বেশির ভাগই আছে। অভিনয় দক্ষতা বাড়ালে তিনি আরও অনেক দূর যেতে পারবেন। দর্শকদের এমন মন্তব্য ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন মন্দিরা। বললেন, ‘পৃথিবীতে কোনো মানুষই শতভাগ পারফেক্ট নন। একজনের কোনো দিক ভালো তো অন্যদিক তুলনামূলক কম ভালো। দর্শক আলোচনা-সমালোচনা করবেনই। আমি কখনোই ভাবি না যে, সবাই আমাকে পছন্দ করবেন বা প্রশংসা করবেন। এটি কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। বড়পর্দায় আমি একেবারেই নতুন। শেখার অনেক বাকি আছে। প্রতিনিয়ত শিখছি, শিখতে চাই আরও। দিন শেষে কেউ যখন বলেন, এখানে দুর্বলতা আছে, ওখানে দুর্বলতা আছে, আমি মনে করি, তারা আমার মঙ্গল চান বলেই এমন মন্তব্য করেছেন। যেন আগামী দিনে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারি। সমালোচনা মানুষকে পরিশুদ্ধ করে, এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।’

মন্দিরার স্বপ্ন স্পষ্ট– তিনি চাইছেন মাশালা ঘরানার সিনেমায় নিজেকে উপস্থাপন করতে। ‘আমি নাচের মেয়ে। এখনও এমন কোনো সিনেমা করিনি, যেখানে নাচের দিকটা ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। আমি চাই রোমান্টিক গানেও পারফর্ম করতে, চাই আইটেম গানেও নিজেকে তুলে ধরতে’, আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বললেন মন্দিরা। তাঁর কথা শুনলে বোঝা যায়, তিনি জানেন কোথায় যেতে চান, কীভাবে যেতে চান। তাই হুটহাট সিদ্ধান্ত নেন না। পরিচালক-প্রযোজকের পরিচয় জানাতে না চাইলেও ইঙ্গিত দিলেন, ‘কথাবার্তা চূড়ান্ত হলে ধীরে ধীরে সব জানাব।’

চ্যানেল আইয়ের রিয়েলিটি শো ‘সেরা নাচিয়ে’ দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও আজকের মন্দিরা শুধুই নৃত্যশিল্পী নন– তিনি নিজেকে গড়ছেন পূর্ণাঙ্গ নায়িকা হিসেবে। তাঁর ভেতরে রয়েছে নাচের আগুন, অভিনয়ের আবেগ আর স্টারডামের স্বপ্ন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে যখন নতুন মুখের খরা, তখন মন্দিরার মতো সাহসী, স্পষ্টভাষী এবং পরিশ্রমী অভিনেত্রীর উত্থান সত্যিই আশাজাগানিয়া। তিনি জানেন, প্রতিযোগিতা রয়েছে, জানেন পথটা সহজ নয়, তবুও বিশ্বাস করেন– ভালো কাজের মধ্য দিয়েই জায়গা করে নিতে হয়।

মন্দিরা বলেছিলেন, ‘তাড়াহুড়া করছি না। ধীরে চলছি। কিন্তু যে কাজ করব, সেটি যেন মনে রাখার মতো হয়– এই লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছি।’ এই কথায় যেন ফুটে ওঠে তাঁর পেশাদারিত্ব আর শিল্পীসুলভ ধৈর্য।

‘কাজলরেখা’ থেকে ‘নীলচক্র’, আর এখন অর্ধডজন ছবির প্রস্তাব–মন্দিরার চলার পথ কেবল শুরু। তারুণ্য, নাচ আর অভিনয়ের মিশেলে তিনি হয়ে উঠতে পারেন ঢালিউডের নতুন সম্ভাবনা। তবে এ পথ যে সহজ নয় তা মন্দিরাও জানেন। কেবল দেখার অপেক্ষা। কঠিন পথ পেরিয়ে মন্দিরা কতটা ঢাকাই ছবির চিত্রনায়িকা হয়ে উঠতে পারেন। 

আরও পড়ুন

×