ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

অন্যদৃষ্টি

ব্রিটিশ রাজনীতির বার্নহাম পর্ব

ব্রিটিশ রাজনীতির বার্নহাম পর্ব
×

অ্যান্ডি বার্নহাম

বেন কুইন

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৭:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ায় ব্রিটেন চার বছরের মধ্যে তার পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে। এই ঘোষণার ফলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য, যিনি গর্ডন ব্রাউনের ২০০৭-১০ সরকারের একজন মন্ত্রী ছিলেন। লেবার পার্টির অনেকেই বার্নহামকে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন জনতুষ্টিবাদী-ডানপন্থি রিফর্ম পার্টির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য দলের সেরা ভরসা হিসেবে দেখছেন।

মৃদুভাষী ও মানবাধিকার আইনজীবী স্টারমারকে একজন বাস্তববাদী ও বিচক্ষণ নেতা হিসেবে প্রশংসা করা হতো। কিন্তু পেনশনভোগীদের জন্য শীতকালীন জ্বালানি ভর্তুকি কমানো এবং গত বছর সংসদীয় বিদ্রোহের মুখে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি থেকে সরে আসার মতো কিছু ভুল পদক্ষেপ তাঁকে বিতর্কিত করে। শিশু যৌন অপরাধী ও অর্থদাতা জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র থাকা সত্ত্বেও লেবার পার্টির বিতর্কিত সাবেক মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্টারমারের বিচারবুদ্ধি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। 

৫৬ বছর বয়সী বার্নহাম ২০১৭ সাল থেকে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে তিনি ২০১০ ও ২০১৫ সালে লেবার নেতা হওয়ার দুটি ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর নির্বাচিত হন। এই পদে তিনি দারুণভাবে সফল হয়েছেন এবং উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের স্বতন্ত্র রাজনীতিতে তাঁর প্রভাবশালী হস্তক্ষেপ ও যুক্তরাজ্যের দ্রুততম বর্ধনশীল এই নগর অঞ্চলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি তত্ত্বাবধানের জন্য ‘উত্তরের রাজা’ উপাধি পেয়েছেন।

জানুয়ারিতে ম্যানচেস্টার এলাকার ওয়েস্টমিনস্টারের একটি আসন খালি হলে স্টারমারের মিত্ররা তাঁকে সংসদে ফিরতে বাধা দেয়। কিন্তু স্থানীয় এমপি পদত্যাগ করার পর এই মাসে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত একটি নতুন বিশেষ নির্বাচনে লেবার প্রার্থী হওয়া থেকে তারা তাঁকে আটকাতে পারেনি।
স্টারমার তাঁর পদত্যাগ ভাষণে উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য একটি প্রতিযোগিতার কথা বলেছিলেন। তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়ানো প্রায় নিশ্চিত। কারণ লেবার পার্টির আরেক প্রভাবশালী এমপি ওয়েস স্ট্রিটিং, যিনি গত মাসে ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, তিনি নির্বাচনে দাঁড়ানোর পূর্বঘোষিত ইচ্ছা থেকে সরে এসে বার্নহামকে সমর্থন করার ঘোষণা দিয়েছেন। যদি বার্নহাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন, তবে আশা করা হচ্ছে তিনি ১৭ বা ১৮ জুলাই লেবার পার্টির নেতা হবেন। 

বার্নহামের সমর্থকরা তাঁর যোগ্যতা ও সামাজিক গণতান্ত্রিক ধারণার সঙ্গে ব্যবসাবান্ধব নীতির সমন্বয় সাধনের দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে গ্রেটার ম্যানচেস্টার অঞ্চলের উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। অন্যদিকে ব্রিটেনের রাজনৈতিক ডানপন্থি বিরোধীরা বার্নহামের অতীতের সেই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেছে যে, রাজনীতিবিদদের বন্ড মার্কেটের কাছে ‘ঋণী’ থাকা উচিত নয়। সমালোচকরা ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগদানের চেষ্টা করবে কিনা– এই বিতর্ক পুনরায় শুরু করার মতো প্রশ্নে তার আপাত অবস্থান পরিবর্তনকে উপহাস করেছেন।
আরেকটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যুতে বার্নহামের দল ইঙ্গিত দিয়েছে, তিনি অভিবাসন ব্যবস্থায় বিতর্কিত পরিবর্তনগুলোকে সমর্থন করবেন, যা স্টারমারের সরকার প্রথম শুরু করেছিল। এটি লেবার পার্টির সেই সব সদস্যের জন্য একটি বড় ধাক্কা, যারা এই পরিবর্তনগুলোকে কিছুটা শিথিল করার আশা করেছিলেন।

যুক্তরাজ্যের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অবশ্যই ২০২৯ সালের আগস্টের মধ্যে হতে হবে, যদিও প্রধানমন্ত্রী এর আগে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ফারাজের রিফর্ম ইউকে গত বছর থেকে জনমত জরিপে শীর্ষে রয়েছে এবং গত সাধারণ নির্বাচনে সংসদে একটি ছোট আসন লাভ করেছিল। গত সপ্তাহে মেকারফিল্ডের ভোটে তিনি যে সীমারেখা টেনেছেন, সেদিকে ইঙ্গিত করে বার্নহাম এখন লেবার পার্টির সম্ভাব্য ‘সংস্কার-হত্যাকারী’ হিসেবে নিজের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।

বেন কুইন: দ্য গার্ডিয়ানের রাজনৈতিক সংবাদদাতা; দ্য গার্ডিয়ান থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর করেছেন সাইফুর রহমান তপন

আরও পড়ুন

×