ঢাবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার, প্রক্টর অফিস ঘেরাও ডাকসু নেতা-কর্মীদের
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৬:৩০
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর প্রতিবাদে প্রক্টর অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরের নেতৃত্বে প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান নেন ডাকসুর নেতা-কর্মীরা। হল সংসদের নেতারাও ছিলেন সেখানে। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে একটি প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের। তিনি অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ শুধু গত রাতেই নয়, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। শেখ হাসিনার ছবি ও ব্যানার টানানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ গেটে তালা লাগানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রশাসনের অবহেলার কারণেই তারা (ছাত্রলীগ) এমন কর্মকাণ্ডের সাহস পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জুবায়ের।
তিনি বলেন, ‘যারা ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, তারা কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগানোর সাহস পায়? আমরা প্রক্টরকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেধে দিয়েছি, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দায়ীদের শনাক্ত করার জন্য।’
প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘পোস্টার কখন লাগানো হয়েছে জানতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। সিকিউরিটি অফিসারকে দারোয়ানদের পরিচয় যাচাই করতে বলা হয়েছে এবং এস্টেট অফিসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার ক্যাম্পাসের মধুর ক্যান্টিন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, কেন্দ্রীয় মসজিদ, কলাভবন সংলগ্ন শ্যাডো, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া, সমাজবিজ্ঞান চত্বর, চারুকলা, হাকিম চত্বর, শামসুন্নাহার হল, কার্জন হল ও জগন্নাথ হলের দেয়ালে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি চাই’ লেখা পোস্টার দেখা যায়। রাতের সাঁটানো পোস্টারগুলো নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন। এতে আলোচনা তৈরি হয় ফেসবুকে।
