ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট ভাঙতে চাই: জামায়াত আমির

বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট ভাঙতে চাই: জামায়াত আমির
×

শাহ আলী কাঁচা বাজারে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ১৩:০১

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে শাহ আলী কাঁচা বাজার পরিদর্শনে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, বাজার পরিস্থিতি আগের চেয়ে বেশি অস্থির। আগে থেকেই বাজার অস্থির, ইদানীং মনে হচ্ছে আরও একটু বেশি অস্থির।’ পরিস্থিতি বুঝতে বিরোধীদল খুচরা বাজার ও মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, জায়গায় জায়গায় মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট এবং চাঁদাবাজির কারণে এখানে যারা ব্যবসায়ী আছে তারাও কিন্তু ভালো ব্যবসা করতে পারে না। আমরা ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে পণ্যগুলো পাই না। কৃষক তার উৎপাদিত মূল্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। মাঝখানে অন্যদের পেটে ঢুকে যায়। আমরা ওটা ভাঙতে চাই।’

মঙ্গলবার সকালে সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘কোন দিন ভাঙতে পারবো আল্লাহ ভালো জানেন, কিন্তু আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে, এই লড়াই চলবে। আমরা থামবো না। আমাদের আওয়াজ, আমাদের প্রতিবাদ, আমাদের দাবি সংসদের ভেতরে ও বাইরে—সব জায়গায় অব্যাহত থাকবে। এই দেশটা আমরা সবাই মিলেই ভালো করতে পারবো। একা কেউ পারবে না। একা কোনো দলও পারবে না। জনগণের সহযোগিতা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘এই যে একটা বিশাল আড়ত-মার্কেট আছে, এখানে যে দোকানগুলো আছে, স্বস্তিদায়কভাবে যারা ব্যবসা করে তারা পায় না। এখানেও দখলদারিত্ব আছে। এখানেও নীরব চাঁদাবাজি আছে। কিন্তু মুখ ফুটে কেউ কথা বলতে চায় না। সবার মুখ চেপে রাখা হয়েছে। কারা করে এই চাঁদাবাজি? আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ করে না। এখানেই আমাদের সাথে চলাফেরা করে, ওঠা-বসা করে বসবাস করে, এই লোকেরা এগুলো করে। তাদের পরিচয় আমরা সবাই জানি।’

তিনি বলেন, ‘বিগত সংসদের শেষ দিবসে আপনারা শুনেছেন, আমি পরিষ্কার বলেছি যে, সংসদের ৩০০ জন সদস্য যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হবে না, তাহলে কেউ করার সাহস পাবে না। কিন্তু এরাই যদি আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তাহলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা অসম্ভব। আমরা চাই চাঁদাবাজিটা বন্ধ হোক।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘মানুষের নাভিশ্বাস, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ যারা, তাদের অবস্থা এখন—বেঁচে থাকাই তাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে।’

এ সময় একজন ব্যবসায়ী বাজারের সমস্যা তুলে ধরে বলেন, সরকার ৫ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া চুক্তিতে দোকান বরাদ্দ দিয়েছে। যারা বরাদ্দ পেয়েছেন, তারা ১ থেকে দেড় লাখ টাকা মাসিক চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষকে ভাড়া দিয়েছেন। সরকার নির্ধারিত ভাড়া প্রতি বর্গফুটে ১৩ টাকা। আমরা চাই চাঁদাবাজি বন্ধ হোক।

বাজার পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মো. মাহফুজুর রহমান প্রমুখ। 

আরও পড়ুন

×