বিএনপি হতাশা নিয়ে নির্বাচনে নেমেছে: তোফায়েল
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের নির্বাচনী সমন্বয় কার্যালয়ে বক্তব্য রাখেন তোফায়েল আহমেদ- ফোকাস বাংলা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:০০
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, একটা দল নির্বাচনে নেমেছে হতাশা নিয়ে। তাদের মুখের দিকে তাকালে দেখা যাবে, তারা হতাশ। তারা বলছেন, নির্বাচনে জিততে দেবে না ও সুষ্ঠু হবে না জেনেও আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তারা এরই মধ্যে পরাজয়বরণ করে নিয়েছেন।
সোমবার রাজধানীর বনানীতে ঢাকা উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের নির্বাচনী সমন্বয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি নেতারা নির্বাচনে দলসমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে থাকতে পারলে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা কেন পারবেন না- এমন প্রশ্ন তুলে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ বিএনপির অন্য শীর্ষ নেতারা মেয়র প্রার্থীদের প্রচারে অংশ নিতে পারবেন। কারণ তারা এমপি নন। কিন্তু আওয়ামী লীগের এমপিরা পারবেন না, এটা হতে পারে না। এ জন্য বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য বলেন, 'মওদুদ আহমদ এমপি নন, তিনি মিটিং করতে পারবেন, বক্তৃতা দিতে পারবেন, তাতে কোনো বাধা নেই। আর আমরা এমপি, আমরা মিটিং করতে পারব না! তারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, সাবেক মন্ত্রী-এমপি। তারা যেতে পারবেন, আমরা যেতে পারব না- এটা তো হতে পারে না।'
তোফায়েল আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনকে সাংঘাতিক গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনকে কোনোভাবেই বিতর্কিত করবে না। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের মানুষ ও দেশবাসী দেখবে একটা অবাধ নির্বাচন হয়েছে। আর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ সব শক্তি দিয়ে বিজয়ী হওয়ার চেষ্টা করবে।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বিএনপি একের পর এক অহেতুক অভিযোগ করছে। তারা সবকিছুতেই কেবল নেগেটিভই দেখে। তাই তাদের দলের নাম ব্যাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) না হয়ে বাংলাদেশ নেগেটিভ পার্টি হওয়া উচিত। নির্বাচনে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।
কাউন্সিলর পদে দলীয় 'বিদ্রোহী প্রার্থী' থাকার বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, 'কাউন্সিলরদের মধ্যে যাদের সমর্থন দিয়েছি, তারাও আমাদের প্রার্থী। যারা বিদ্রোহী প্রার্থী, তাদের অনুরোধ করছি, চেষ্টা করছি বসিয়ে দেওয়ার। তবে আমাদের সবার মূল লক্ষ্য একটাই, সেটা হচ্ছে মেয়র প্রার্থী। কাজেই আমরা মেয়রকে নিয়েই ব্যস্ত থাকব, আর কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের মতো নির্বাচন করবেন।'
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতা দখল করতে চায় না। আর সিটি নির্বাচনে হারলে আওয়ামী লীগ নিশ্চয়ই ক্ষমতাচ্যুত হয়ে যাবে না। এই নির্বাচনে জনগণের যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীই বিপুল ভোটে জিতবেন। কোনো ভোট ডাকাতি করা লাগবে না।
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনায় যারা রয়েছেন, শুধু তাদের সঙ্গে পরিচিতি করিয়ে দিতেই এই মতবিনিময় সভা ডাকা হয়েছে। আশা করি, এতে নির্বাচনী আইনের কোনো লঙ্ঘন হবে না। আওয়ামী লীগ সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করেই জিততে চায়।
মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, গত মেয়াদে মাত্র ৯ মাস মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার একটি অভিজ্ঞতা হয়েছে। এই অভিজ্ঞতাকে সামনের দিনে কাজে লাগাতেই মেয়র প্রার্থী হয়েছেন তিনি। সবার দোয়ায় তিনি আবারও এগিয়ে যেতে পারবেন বলেই তার প্রত্যাশা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি।
- বিষয় :
- তোফায়েল আহমেদ
