ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সুরের বন্ধনে সংগীত দিবস উদযাপন

সুরের বন্ধনে সংগীত দিবস উদযাপন
×

বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালার মূল মঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এ আয়োজন করে। ছবি: সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | ১২:০৬

সংগীত শুধু বিনোদনের অনুষঙ্গ নয়; মানুষের অনুভূতি, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্ত ভাষা। ভাষা, ভূগোল কিংবা রাজনীতির সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়কে যে শিল্পমাধ্যম সবচেয়ে সহজে যুক্ত করতে পারে, তার অন্যতম হলো সংগীত। সেই বিশ্বজনীন শিল্পধারার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ব সংগীত দিবসে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা।

গতকাল রোববার বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পৃথক উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিগুলো দিনটিকে পরিণত করে এক প্রাণময় সাংস্কৃতিক উৎসবে।

সেগুনবাগিচার কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। সুরের ধারার শিল্পীদের কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের পরিবেশনা দিবসটির আবহকে গম্ভীর ও তাৎপর্যময় করে তোলে। পরে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বাচিক শিল্পী আশরাফুল আলম। উদ্বোধনের পর ঢাক-ঢোলের তালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কচি-কাঁচার মেলা প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা ঘুরে আবার অনুষ্ঠানস্থলে ফিরে আসে। শোভাযাত্রাটি যেন সংগীতের উৎসবকে নগর জীবনের ভেতরে ছড়িয়ে দেওয়ার এক প্রতীকী প্রয়াস।

আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারী বক্তারা সংগীতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র শীলের স্বাগত বক্তব্যের পর বক্তব্য দেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান এবং আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসংগীত শিল্পী মাহমুদ সেলিম।

আলোচনা শেষে শুরু হয় সংগীত ও নৃত্য অনুষ্ঠান। সমন্বয় পরিষদের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা দলীয় ও একক পরিবেশনায় মঞ্চকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। স্পন্দনের নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ পর্বে অংশ নেয় সুরের ধারা, নিবেদন, গীতশতদল, অভ্যুদয়, রাধারমণ সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র, বিশ্ববীণা, সংগীত ভবন, নির্ঝরিণী একাডেমি, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, মরমী লোকগীতি শিল্পীগোষ্ঠী এবং দেলোয়ার হোসেন বয়াতী ও তাঁর দল। 

অন্যদিকে বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির দুই দিনব্যাপী আয়োজনও ছিল ব্যাপক ও আন্তর্জাতিক মাত্রাসম্পন্ন। সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। আগুন, ফাহমিদা নবী, আলিফ আলাউদ্দিন, পলাশ নূর, সাব্বির জামান, রমা, মিতা খন্দকার, পিয়াল হাসান, অনিমেষ, অঙ্কুর কুমারসহ দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা একক ও সমবেত পরিবেশনায় অংশ নেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নতুনভাবে তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করে চীন ও জাপান দূতাবাসের আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনা। অনুষ্ঠান শেষে ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করেন ইথুন বাবু অ্যান্ড ফ্রেন্ডস, অনিমেষ অ্যান্ড ফ্রেন্ডস ও অঙ্কন কুমার।

আরও পড়ুন

×