ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সারাদেশে ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধনী কার্যক্রম, শুরু ১৮ জুন

সারাদেশে ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধনী কার্যক্রম, শুরু ১৮ জুন
×

ছবি: সংগৃহীত

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ১০:২৯

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৮ জুন থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে ‘নজরুল বর্ষ’-এর উদ্বোধনী কার্যক্রম। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন চলবে ২০ জুন পর্যন্ত। দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৭৪টি প্রত্যন্ত ও বিশেষায়িত উপজেলায় একযোগে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এর সূচনা হবে।

গতকাল রোববার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, গত ২৩ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সময়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ব্যাপক কর্মসূচি ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকে দেশের প্রতিটি জেলা ও নির্ধারিত উপজেলায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জাতীয় জীবন ও বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের অসামান্য অবদান দীর্ঘদিন যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। অথচ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে নজরুলের চেতনা সবসময়ই অন্যতম প্রধান প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে। তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেন। পরবর্তীকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারও জাতীয় কবির সাহিত্য ও দর্শন প্রচারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিল। বর্তমান সরকার নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে সরকারের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন, নজরুল বর্ষের স্মারক লোগো ও পোস্টার প্রকাশ, বিশেষ ক্যালেন্ডার প্রণয়ন এবং স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ। পাশাপাশি কবির সাহিত্য, দর্শন ও সংগীত নিয়ে গবেষণা, আর্কাইভ গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জোরদারের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরেও নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও জীবন দর্শন তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িকতার দর্শন বর্তমান বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের মাধ্যমে জাতীয় কবির চিন্তা  নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন

×