ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

করোনার দিনলিপি, দুবাইয়ে ওরা ১৯ জন

করোনার দিনলিপি, দুবাইয়ে ওরা ১৯ জন
×

ওরা ১৯ জন স্বেচ্ছাসেবী- সমকাল

কামরুল হাসান জনি, ইউএই :

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ০১:০১ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ০১:৩২

করোনার থাবা এড়াতে সবাই যখন নিজঘরে বন্দি, তখন দুবাইয়ে ঘরবন্দি মানুষের সেবায় ঘর ছেড়েছেন ওরা ১৯ জন। সবাই বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী। করোনার ভয় জয় করে লকডাউনে থাকা নাইফ এলাকায় বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করছেন সাংবাদিক মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে ১৯ জনের স্বেচ্ছাসেবী এই ইউনিট। গত ৩১ মার্চ নাইফ এরিয়া লকডাউন ঘোষণা করে দুবাই প্রশাসন। তখন থেকেই কাজে নেমে পড়েছেন তারা। 

সরকারি অর্থায়ন, পুলিশ ও অন্যান্য প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়েই করোনা যুদ্ধে লড়াই করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ নাগরিকের করোনা পরীক্ষা করেছে দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৩০২জন। তার মধ্যে  সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১ হাজার ১৮৮ জন। 

ইতিমধ্যেই লকডাউনে বন্দি প্রবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা। পাশাপাশি ত্রাণ সহযোগিতা দিচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সংগঠন ও দূতাবাসগুলো। তবে সরাসরি দুবাই পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় ব্যতিক্রমী ভূমিকা পালন করছে ১৯ জনের স্বেচ্ছাসেবী দল। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দুটি দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন তারা। কখনও বাংলাদেশিদের বাসা-বাড়িতে থাকার তাগাদা দিচ্ছেন, কখনো মেডিকেল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে অসুস্থ প্রবাসীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করছেন। আবার কখনও সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া খাবার বিনামূল্যে পৌঁছে দিচ্ছেন স্বদেশিদের হাতে।

সাংবাদিক মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে ১৯ জনের এই ইউনিটে কাজ করছে- মোদাসসের শাহ, আব্দুল্লাহ আল শাহীন, আনোয়ার হোসাইন, শামসুন নাহার স্বপ্না, রুমা খাতুন, কাজি ইসমাইল, ফখরুদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ জলিল, মোহাম্মদ মিজান, মোহাম্মদ ইদ্রিস, মঞ্জুর মোরশেদ, মোহাম্মদ নুরুল, মোহাম্মদ ইমরান, আনোয়ার আজিম, হাসান ফরহাদ, বাশির চোখদার, হামদান আহমেদ ও মোহাম্মদ শাইফ।

স্বেচ্ছাসেবী ইউনিটের একাধিক কর্মী কথা বলেন সমকালের সঙ্গে। তারা জানালেন তাদের করোনার দিনলিপি। দিনের শুরুটা হয় সচেতনতা দিয়ে। স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, লকডাউনে থাকা একেকটি ভবনের প্রায় প্রত্যেককেই পরীক্ষা করা হচ্ছে। দুবাইয়ের আল সাবখা বাস স্টেশনে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হয়েছে করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র। যাদের পরীক্ষা করা হয়, তাদের দুবাই সরকারের অর্থায়নে পাঁচ কিংবা চার তারকা হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনদিনের মাথায় যাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তাদের বাসায় ফেরার অনুমতি মিলে। আর যারা পজিটিভ রিপোর্ট পেয়ে করোনা শনাক্ত হচ্ছে, তাদের সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় আল ওয়ার্সন অস্থায়ী হাসপাতালে। স্বেচ্ছাসেবক ইউনিটের সদস্যদেরও সুস্থতা নিশ্চিত করতে শারীরিক পরীক্ষা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দিনের কর্মসূচিতে থাকে দুপুর ও সন্ধ্যার খাবার বিতরণ কার্যক্রম। দুপুরের খাবার বেলা ১২টার পর আবার রাতের খাবার সন্ধ্যা ৬টায়। এভাবে প্রতিদিন দু’বেলা বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করছে স্বেচ্ছাসেবী এই ইউনিট। এই খাবার সরবরাহ করে দুবাই পুলিশ। 

লকডাউনে থাকা এলাকাটিতে প্রায় বিশ হাজার বাংলাদেশি হলেও খাবারের জোগান আসে দুই হাজারের মতো। পর্যাপ্ত খাবারের সংকুলান হচ্ছে না জানিয়ে লকডাউনে থাকা এরিয়াগুলোতে বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকেও খাবার সরবরাহের দাবি করেন স্বেচ্ছাসেবকরা। প্রতিদিনের নিয়মিত কার্যক্রম শেষে স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন হোটেলে। হোটেলে তাদের একেকটি আলাদা কক্ষে থাকতে দেওয়া হয়। মূলত স্বেচ্ছাসেবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই দুবাই প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়েছে। তবুও কেউ কেউ দিন শেষে ফিরে যান নিজের গৃহে, পরেরদিন যোগ দেন দলীয় কর্মকান্ডে। 

স্বেচ্ছাসেবী ইউনিটে ২জন নারী রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, লকডাউন এরিয়ায় অনেকগুলো বাংলাদেশি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারে নারীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে স্বেচ্ছাসেবী ইউনিটে নারীকর্মী রাখা হয়েছে। নারীকর্মীরাও স্বেচ্ছায় নিবেদিত হয়ে কাজ করছেন এখানে।

১৯ জনের স্বেচ্ছাসেবী এই ইউনিট ইতিমধ্যে নিজেদের কাজের মাধ্যমে দুবাই প্রশাসনের কাছে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। দুবাই পুলিশও তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছে। 

আরও পড়ুন

×