ঢাকা ইউনিভার্সিটি আ্যলামনাই ইন দ্য ইউকের বিজয় দিবস উদযাপন
ছবি- সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২০:১৬
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে ৫৫তম বিজয় দিবস উদযাপন করেছে।
শনিবার পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় একটি হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের সহ-সভাপতি রিপা সুলতানা রাকীবের তত্ত্বাবধানে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
আলোচনা ও স্মৃতিচারণ পর্বে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল বাসিত চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। তিনি শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকায় তুলে ধরেন- কিভাবে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মিত্র বাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পনের মাধ্যমে নয় মাসব্যাপী চলা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
এ আয়জনের শুরুতে মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে উপস্থিত সকলে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের পরিচালনায় সাক্ষাৎকার ভিত্তিক স্মৃতিচারণ ও বক্তৃতা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ জাফরের উপস্থাপনায় স্মৃতিচারণে অংশ নেন সংগঠনের উপদেষ্টা শাহগীর বখত ফারুক এবং মুক্তিযোদ্ধা ও উপদেষ্টা আবু মুসা হাসান।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহারুন আহমেদের উপস্থাপনায় স্মৃতিচারণ করেন মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান ও উপদেষ্টা আব্দুর রাকীব। এছাড়া সহ-সভাপতি নিলুফা ইয়াসমীন হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক এম কিউ হাসানের উপস্থাপনায় আরও কয়েকজন উপদেষ্টা ও নির্বাহী সদস্য স্মৃতিচারণে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা হাবিব রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালে প্রবাসে বসে পরিচালিত আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানান। এছাড়া নির্বাহী সদস্য মারুফ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি মির্জা আসাব বেগ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক সম্পাদক এরিনা সিদ্দিকী সুপ্রভার সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হয়। দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন রাশিদা বানু, তারেক সায়েদ, সৈয়দ জুবায়ের, কেজেবি কনক, রিপা সুলতানা রাকীব, কাজী কল্পনা, নিলা নিকি খান, সাঈদা চৌধুরী ও সাঈদা তামান্না।
কবি শামসুর রাহমানের কবিতা ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ যৌথভাবে আবৃত্তি করেন মেজবাহ উদ্দিন ইকো ও মাহমুদা চৌধুরী। এছাড়া ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রতি বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সংগীতশিল্পী সৈয়দ জুবায়ের ও তারেক সায়েদকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়।
সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল বাসিত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান এবং কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ জাফর সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী কমিটির সদস্যা খাদিজা আহমেদ বন্যা ও মাহমুদা চৌধুরী। পরবর্তীতে এই দুই গুণী শিল্পীকে উত্তরীয় প্রদান করেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজবাহ উদ্দিন ইকো।
অনুষ্ঠানে আগত সবাইকে ‘বিজয়ফুল’ পরিয়ে দেন সৈয়দ হামিদুল হক, মাহফুজা রহমান, মাহারুন আহমেদ ও নিলুফা ইয়াসমীন।
অনুষ্ঠানের সমাপনীতে, সভাপতি সিরাজুল বাসিত চৌধুরী এবং সাবেক সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির সদস্য মারুফ চৌধুরী সদস্যদেরকে স্কলারশিপ ট্রাস্ট ফান্ডে অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান স্কলারশিপ ট্রাস্ট ফান্ড সম্পর্কিত আপডেট দেন। তিনি জানান, গত বার্ষিক সাধারণ সভায় ১৪০টি স্কলারশিপ সদস্যদের দ্বারা অঙ্গীকার করা হয়েছিল এবং এর অধিকাংশই ফান্ডে প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রাস্ট ফান্ড টিমের মাধ্যমে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিভাবান ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ১০০ জন ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ প্রদান করা যায়।
সভাপতি সিরাজুল বাসিত চৌধুরী সমাপনী বক্তব্যে সবাইকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যে সকল নারী পুরুষ আত্মত্যাগ করেছেন তাদের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন এবং বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানকে সফল করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানান এবং আগত অতিথীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
- বিষয় :
- বিজয় দিবস
- যুক্তরাজ্য
