দুর্গাহাটা ডিগ্রি কলেজ
১৫ দিনে ৬০ ক্লাসের ৫৭টি হয়নি, হুমকিতে আতঙ্কে শিক্ষকরা
ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৫১
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধ এবং বহিরাগতদের হুমকিতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। কমিটি দ্বন্দ্ব ও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা কলেজে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন, আর লাঞ্ছনার ভয়ে আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষকরাও। এর ফলে ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ২০০ শিক্ষার্থী ও ৫১ শিক্ষক-কর্মচারীর এই আঞ্চলিক বিদ্যাপীঠটিতে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
কলেজ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন অধ্যক্ষ মোজাফফর হোসেন পদত্যাগ করলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মইনুল আহসান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশের (ডি-ও লেটার) ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৩০ আগস্ট সাখাওয়াত হোসেনকে সরিয়ে শাহজালাল মানিককে নতুন সভাপতি মনোনীত করে। শাহজালাল দায়িত্ব নিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে উদ্যোগী হন এবং গত ৯ অক্টোবর শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।
অভিযোগ উঠেছে, এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে পদচ্যুত সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও সাবেক অধ্যক্ষ মোজাফফর হোসেন একত্র হয়ে কলেজে বিশৃঙ্খলা শুরু করেন। অন্যদিকে, সাবেক অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আকিল আহমেদ মোমিন ও ডি-ও লেটার বাতিল হওয়া রবিউল আলম অশ্রু নামের আরেক ব্যক্তিও সভাপতি পদের দাবি নিয়ে নতুন কমিটির বিপক্ষে অবস্থান নেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব পক্ষের সমর্থিত বহিরাগতরা কলেজে এসে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীদের নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে। গত ১ অক্টোবর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ৬৫ জনসহ ১২০ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ১৫-২০ জনে। বিগত ১৫ দিনে একাদশ শ্রেণির নির্ধারিত ৬০টি ক্লাসের জায়গায় মাত্র তিনটি ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়েছে। নবীন শিক্ষার্থী ওমর ফারুক সাজ্জাদ জানায়, ‘কমিটি নিয়ে মারামারির কারণে বহিরাগতরা কলেজে না আসতে হুমকি দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।’
কলেজের ইসলামী শিক্ষার প্রভাষক বজলুর রশীদ বলেন, ‘আমরা নতুন সভাপতি শাহজালালকে মেনে নিয়েছি। কিন্তু প্রতিপক্ষের অহেতুক বিরোধিতায় আমরা কলেজে আসতেই ভয় পাচ্ছি।’ এমনকি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আসা সাহাবুল ইসলাম নামে এক চাকরিপ্রার্থীকেও আবেদন না করতে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মইনুল আহসান জানান, ‘কমিটির বিরোধের জেরে আমাকে বহিরাগতদের দিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত হুমকির কারণে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া যাচ্ছে না।’ উল্টো সাবেক অধ্যক্ষ মোজাফফর হোসেনের দাবি, তাঁকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে। অন্যদিকে সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও সাবেক অ্যাডহক সভাপতি আকিল আহমেদ মোমিনের দাবি, উচ্চ আদালত তাদের পদে বহাল রাখার রায় দিলেও তাদের কলেজে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে আরেক সভাপতি প্রার্থী রবিউল আলম অশ্রু বহিরাগত নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কলেজের এমন অচলাবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জমিদাতা আশরাফ আলী ও দুর্গাহাটা ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল রানা। তারা দ্রুত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
উদ্ভূত সংকটের বিষয়ে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত হয়েছেন এবং দ্রুত খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সহিংসতা ও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না জানিয়ে বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন স্পষ্ট করে বলেন, ‘জনস্বার্থে শাহজালালকে ডি-ও লেটার দেওয়া হয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী কলেজটি নিয়ে কেউ বিভ্রান্তি বা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- বগুড়া