‘ওই নতুনের কেতন ওড়ে...’
শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাস দর্শকদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছেন জুনিয়র টাইগার-এএফপি
সুমন মেহেদী
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২:৩০
‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর, তোরা সব জয়ধ্বনি কর। ওই নতুনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়।’ কবি নজরুলের অনেক আগে লেখা গানটা বাজালে মনে হবে, এমন এক তরুণ দলের জয়ের কথা ভেবেই তিনি গানটি রচনা করেছেন। গানের পূর্ণতা দিয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা সেই জয়ধ্বনি তুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে।
তাদের দারুণ জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে উড়েছে বাংলাদেশের বিজয় কেতন। উড়েছে তারুণ্যের কেতন। আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন আগমনী বার্তার। ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা সেই দলের অনেকেই এখন খেলছেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। নাজমুল শান্ত-সাইফ হাসানরা খেলছেন। মিরাজ-সাইফউদ্দিনরা একটা বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন। যুব বিশ্বকাপ না খেললেও তাদের সঙ্গে বেড়ে ওঠা মুস্তাফিজরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে কেতন উড়িয়েছেন। জাকির-মেহেদি রানারাও হারিয়ে যাননি।
আর এই যুবারা তো আরও পরিণত। গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত কম পরীক্ষা দিতে হয়নি তাদের। স্নায়ুচাপ ধরে রেখে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে। খোরাক জুড়িয়েছে আত্মবিশ্বাসের। নিউজিল্যান্ড তাই পাত্তা পায়নি সেমিফাইনালে। টানা তিন যুব বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা। রেকর্ড চারটি শিরোপা জেতা ভারত শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি টাইগার যুবা আকবর আলীদের আত্মবিশ্বাসের কাছে।
যেভাবে আগুনে বোলিং করে ভারতকে বেধে রেখেছে তারা। যেভাবে রান তাড়া করেছে তার প্রশংসা না করা কঠিন। ইনজুরির চোখ রাঙানি পাশ কাটিয়ে পারভেজ ইমন যেভাবে ব্যাটিং করেছেন। আকবার যেভাবে স্নায়ুচাপ জয় করেছেন। যেভাবে সঙ্গীকে সমর্থন দিয়ে গেছেন তা অসাধারণ। ফাইনালে এমন ঠান্ডা মাথায় খেলা সহজ নয়।
ম্যাচ শেষে আকবর তাই বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল খুবই সোজা। ভারতকে উইকেট দেব না।’ শেষ পর্যন্ত তার সেই সহজ পরিকল্পনা এবং তার সুষ্ঠু প্রয়োগ শিরোপা এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে। কিন্তু তার আরও পরিণতি বোধের পরিচয় পাওয়া যায় যখন বলেন, ‘এটা আমাদের শুরু।’ আকবর তার দল নিয়ে বুঝিয়ে দেন আত্মবিশ্বাসের কথা। বয়সের বেড়াজালে পড়ে এই দল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দলে ডাক পাবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভিন্ন দলে, ভিন্ন ক্লাবে খেলবে। কিন্তু কোন এক সময় যেন তাদের অনেকের আবার এক হতে হবে। যেতে হবে আরও ‘বহুদূর’।
বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ জয়ী রানটা আসে রাকিবুলের ব্যাট থেকে। চার মেরে এবং শেষে সিঙ্গেলটা বের করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন তিনি। ছুটে চলে যান সতীর্থদের দিকে। গায়ে বাংলাদেশের পতাকা জড়িয়ে আসেন ক্যামেরার সামনে। বলেন, ‘একটা পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিলাম। সেটা কাজ করেছে।’ তাদের কথায় স্পষ্ট বড় স্বপ্ন নিয়েই তারা পা রেখেছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়।
ইনজুরি নিয়ে ব্যাটিং করা পারভেজ ইমন তাই ম্যাচ শেষে তার ইনজুরির কথা ভুলে যান। প্রকাশ করেছেন উচ্ছ্বাস, ‘অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আমরা এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।’ ইমনরা হয়তো বুঝতে পারছেন নতুনদের হাত ধরে অসাধারণ একটা ঘটনাও বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটে গেছে। তাদের কাছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সেরা ক্রিকেটের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে ক্রিকেট ভক্তদের।
সেই ভক্তরা যারা লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে মাঠে খেলা দেখতে আসেন। লাল-সবুজের জার্সি পরে। লাল-সবুজের সাজ নিয়ে। পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েজ পার্কেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ভক্তরা সেখানে উচ্ছ্বাস করেছেন। যুবাদের মারা চারটা যেদিক দিকে বেরিয়েছে ছুটে এসেছেন সেদিকেই। কারও মাথায় বাধা দেশের পতাকা। কারও মাথার ওপরে লাল-সবুজ। ওই পতাকা উড়েছে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত। আর এবার ওই পতাকা উড়ানোর দায়িত্ব থাকবে তাদের উত্তরসূরীদের ওপর। প্রত্যাশা থাকবে এমনই জয়োধ্বনি তোলার। বিজয় কেতন ওড়ানোর।
- বিষয় :
- খেলা
- ক্রিকেট
- বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯
- ফাইনাল
- চ্যাম্পিয়ন
