ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

নেটে মাঠে পথে জয়োল্লাস

নেটে মাঠে পথে জয়োল্লাস
×

যুবাদের বিশ্বকাপ জয়ে ভক্তদের উল্লাস। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২:৫৬

শেষের দিকে বৃষ্টি নামলেও ডার্কওয়ার্থ/লুইস পদ্ধতিতে জানা গিয়েছিল, রানে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশই জিতবে। বৃষ্টি থামার পর খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের জয়ের টার্গেট কমে যায়। ৩০ বলে দরকার ৭ রান। এর পরই এক, চার, এক করে একবারে জয়ের বন্দরে। 

তারপর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, রকিবুলের ব্যাট থেকে জয়ী রানটি আসার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুম স্টেডিয়ামে থাকা বাংলাদেশি খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকদের সঙ্গে দেশে টেলিভিশনের পর্দা, মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা কোটি দর্শক ও রেডিও শ্রোতারা একসঙ্গে বাংলাদেশ বাংলাদেশ স্লোগান দিয়ে চেঁচিয়ে ওঠেন। তারা বলতে থাকেন, পেরেছি আমরা পেরেছি, বিশ্ব এখন আমাদের।

বহু বছরের প্রতীক্ষার অবসান হয় তরুণ টাইগারদের হাত ধরে। এই খুশিতে রোববার উদ্বেল হয়ে ওঠে পুরো দেশ। রাতেই সারাদেশে আনন্দ মিছিল বের করে উল্লসিত জনতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর, শাহবাগ লোকারণ্য হয়ে পড়ে বিজয় মিছিলে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নেমে আসেন পথে। জয়ধ্বনিতে উদ্‌যাপন করতে থাকেন প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার উজ্জ্বল গৌরব।

মাঠের মিছিলের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও ভেসে যায় শুভেচ্ছা শুভকামনায়। ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া আকবর বাহিনীকে অভিনন্দন জানাতে থাকেন নেটিজেনরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মসিউর রহমান খান নামে একজন তার ওয়ালে লেখেন- ফাইনালে উঠে হেরে যাওয়ার দিন শেষ- সাবাস বাংলাদেশ।

টিএসসিতে আনন্দের ঢল: ঢাবি প্রতিনিধি জানান, এই প্রথমবারের বিশ্বজয়ের মুহূর্ত উদ্‌যাপনে সারাদেশের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণেও যেন নেমেছে আনন্দের ঢল। বাংলাদেশ সেমিফাইনালে ওঠার পর থেকেই এই টুর্নামেন্ট নিয়ে আশায় বুক বাঁধতে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

রোববার ফাইনাল খেলা দেখার জন্য টিএসসির পায়রা চত্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ডিজিটাল স্ক্রিনের ব্যবস্থা করে। দুপুরে খেলা শুরু হওয়ার আগে থেকেই চত্বরে জমেছিল মানুষের ভিড়। ভারতের প্রতিটি উইকেট পড়ার পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন তারা। বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম দিকে দর্শকদের মুহুর্মুহু চিৎকারে কেঁপে উঠছিল টিএসসি প্রাঙ্গণ। তবে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ার হতাশা নেমে আসে। 

সপ্তম উইকেট জুটির দৃঢ়তায় বাংলাদেশ জয়ের বন্দরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন দর্শকসারিতে ফিরে আসে প্রাণচাঞ্চল্য। সময় যত গড়াতে থাকে, দর্শকের চিৎকার ততই বাড়তে থাকে। সপ্তম উইকেট পতনের পর কিছুক্ষণের জন্য নীরবতা নেমে আসে দর্শকের মাঝে। 

আকবর-রকিবুলের জুটি যখন জয়ের বন্দর থেকে কিছুটা দূরে, তখনও দুশ্চিন্তার ছাপ দেখা যাচ্ছিল তাদের মুখে। দর্শকদের মনে পড়ছিল আগের বঞ্চিত হওয়ার স্মৃতিগুলো- 'বাংলাদেশ জিততে পারবে তো? নাকি জয়ের কাছ থেকে ফিরে আসতে হবে?'

বৃষ্টি শেষে আবার খেলা শুরু হওয়ার পর ফিরে আসে আনন্দধ্বনি। আর জেতার পর তাদের আনন্দের বাঁধ যেন ভেঙে গেল। চলতে থাকল বিজয় উল্লাস। আনন্দে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে সবাই 'বাংলাদেশ বাংলাদেশ' স্লোগান দিতে থাকেন।

আরও পড়ুন

×