'কষ্টগুলো জানাতে পেরে হালকা লাগছে'
সাফজয়ী নারী ফুটবলার সানজিদা আক্তার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ২২:২৯
নেপালের বিপক্ষে তখনও শিরোপা লড়াইয়ে নামেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যায় সানজিদা আক্তারের পোস্ট। যেখানে ছাদ খোলা বাস, মেয়েদের কষ্টের জীবন, লড়াই করার মানসিকতা- সবকিছুই তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর এক স্ট্যাটাসে সাড়া পড়ে যায়। সোমবার সন্ধ্যায় কাঠমান্ডুতে নারী সাফের ফাইনালে নেপালকে ৩-১ গোলে হারানোর পর মেয়েদের বরণ করে নিতে ছাদ খোলা বাসের দাবি ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এক স্ট্যাটাস দিয়ে রীতিমতো রানী বনে যাওয়া সানজিদা মেয়েদের ফুটবলের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তা তুলে ধরা হয়েছে সমকাল পাঠকদের জন্য।
প্রশ্ন :সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার একটি পোস্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এমন স্ট্যাটাস দেয়ার আসল নেপথ্য কী?
সানজিদা: আসলে মনে চাপা থাকা কথাগুলো যখন কারও সঙ্গে প্রকাশ করতে না পারি, তখন কষ্ট লাগে। তখন ভাবলাম আমার পেজে আমি এটা শেয়ার করি। দেশের ১৮ কোটি মানুষ যাতে করে জানে আমাদের মনের কষ্টগুলো। জানাতে পেরে নিজেকে অনেক হালকা লাগছে। ভালো লাগছে। আর যে আবেগঘন কথাগুলো বলা হচ্ছে, যেটা সত্যি সেটাই আমরা বলেছি।
প্রশ্ন :নারীদের সামাজিক চিত্র। অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে উঠে এসেছেন। এখন তো চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।
সানজিদা: সেটা (চ্যাম্পিয়ন হওয়া) কখনও প্রকাশ করিনি যে আমরা এবার ভালো কিছু করব। আমরা শুধু বলেছি যে চেষ্টা করব। ফাইট করব। কিন্তু আমাদের মনের মধ্যে একটা জেদ ছিল যে এই ট্রফিটা আমাদের দেশে নিতে হবে। ট্রফিটা শুধু আমাদের জন্য নয়, আমরা যে দিন-রাত পরিশ্রম করেছি, সেটা দেশের জন্য। দেশের মানুষের জন্য। সেটা আমরা করতে পেরেছি। তাই আমি বলব আমরা সফল।
প্রশ্ন: আপনার স্ট্যাটাসে ছাদ খোলা বাসে উদযাপনের কথা তুলে ধরেছেন। এখন তো সেই সংবর্ধনা দেওয়া হবে আপনাদের
সানজিদা: ইউরোপিয়ান লিগগুলোতে দেখেছি, যখন চ্যাম্পিয়ন হয়, তখন ওদেরকে ছাদ খোলা বাসে করে নেওয়া হয়। অনেক আনন্দ করা হয়। আমার মনে হয়েছে যদি আমরা চ্যাম্পিয়ন হই, যদি আমাদের জন্য ছাদ খোলা বাসের ব্যবস্থা করা হয়, খুব ভালো লাগত। এখন শুনেছি এমনটা করা হচ্ছে আমাদের জন্য। এটা স্বপ্নের মতো লাগছে। টিভিতে দেখেছি খেলোয়াড়রা ছাদ খোলা বাসে চড়ে ট্রফি উদযাপন করে, এখন আমরা করব, ভাবতেই কেমন জানি লাগছে। আরও বেশি গর্বিত যে এই দলেরই একজন আমি। ছাদ খোলা বাসে আমিও থাকব। তর সইছে না, যেন আজই দেশে ফিরে যাই।
প্রশ্ন: অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এলাকার মানুষের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন
সানজিদা: আমাদের ফুটবলের গল্প সবাই জানে। কতটা বাধাবিপত্তি পাড়ি দিতে হয়েছে আমাদেরকে। অনেকেই টিপ্পনী পর্যন্ত দিয়েছিল। এখন তার জবাব সমালোচকরা পেয়ে গেছেন। আসলে অস্ত্র হলেই যে যুদ্ধ জয় করা যায়, সেটা না। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি যে আমরা পারি। আমাদের যে গ্রাম আছে, এই গ্রামকে আগে কেউ চিনত না। আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না। প্রধানমন্ত্রী সেটার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমাদের এলাকার সবাই এখন আমাদের নিয়ে গর্ববোধ করেন। আমার বাবা-মাও আমাকে নিয়ে অনেক গর্ব করেন।
প্রশ্ন: চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর উদযাপনটা কেমন ছিল
সানজিদা: মাঠে নেচেছি, বাসে নেচেছি, হোটেলেও ফিরে নাচানাচি করেছি। গান গেয়েছি, কেক কেটে উদযাপন করেছি। সারা রাত উদযাপন করেছি।
প্রশ্ন: এখন থেকেই কি মেয়েদের ফুটবলের নতুন পথচলা শুরু
সানজিদা: আমরা কিন্তু অনেক দিন ধরেই একসঙ্গে খেলে আসছি। আপনি দেখেন, বয়সভিত্তিক পর্যায়ে আমরা ভালো করেছি। এই সাফল্য কিন্তু একদিনে আসেনি। বিশ্বাস করি এই জয় করায় মেয়েদের ফুটবল নিয়ে সবার আগ্রহ বেড়ে যাবে। এখান থেকেই বুঝতে পারছি দেশের মানুষ কতটা খুশি হয়েছে আমাদের এই সাফল্যে। আমি মনে করি বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবলের জন্য এই সাফটি বাঁকবদলের।
