কোথায় জয়সওয়াল আর কোথায় আমাদের আকবর!
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে একসঙ্গে খেলা বাংলাদেশের আকবর আলী (ডানে) ও ভারতের জশস্বী জয়সাওয়াল। ছবি: ফাইল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৩ মে ২০২৩ | ০৯:৩৩
মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সেঞ্চুরি, কলকাতার বিপক্ষে ইডেনে শতরানের দোরগোড়ায়– এবারের আইপিএলে ক্রিকেটপ্রেমীরা মুগ্ধ যশস্বী জয়সওয়ালের ব্যাটের দাপট দেখে। ক্রিকেটের আকাশে যেন নতুন তারার আগমনী শোনা যাচ্ছে। তিন বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় এই জয়সওয়ালদের হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন আকবর আলীরা। অথচ এখন জয়সওয়ালরা তারা হয়ে ওঠার পথে, আর কোথায় আমাদের আকবর আলীরা?
প্রতিভার বিচ্ছুরণ জয়সওয়াল আগেই দেখিয়েছিলেন। তবে এবারের আইপিএলে নতুন রূপে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিংয়ের ভরসা হয়ে উঠেছেন ২১ বছরের এ তরুণ। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ইডেনে ১৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে চারদিকে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন তিনি। এটা আইপিএলের ইতিহাসে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি। এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন লোকেশ রাহুল ও প্যাট কামিন্স। দু’জনই ১৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। শুধু মারকাটারি ব্যাটিংই করছেন না, লম্বা ইনিংসও খেলছেন জয়সওয়াল। এবারের আসরে ৫৭৫ রান নিয়ে তিনি আছেন দুই নম্বরে। রান সংগ্রহে শীর্ষে থাকা ফাফ ডু প্লেসিস তাঁর চেয়ে মাত্র ১ রান এগিয়ে। আর ‘ইম্পেক্ট’ বিবেচনায় তো তিনি সবার শীর্ষে!
শুধু জয়সওয়ালই নন, তিন বছর আগে পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশের কাছে হেরে যাওয়ার ভারতীয় দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারই প্রতিষ্ঠার পথে। ওই ফাইনালে তিনে ব্যাট করা তিলক ভার্মাও এবারের আইপিএলে সাড়া জাগিয়েছেন। মুম্বাইয়ের হয়ে বেশ কয়েকটি চমৎকার ইনিংস খেলেছেন এ বাঁহাতি। ওই দলের অধিনায়ক প্রিয়ম গর্গ ও মিডল অর্ডারের ভরসা ধ্রুব জুরেল সে তুলনায় তাঁদের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে। বোলারদের মধ্যে লেগস্পিনার রবি বিষ্ণোয়ী তো এরই মধ্যে ভারত জাতীয় দলে খেলে ফেলেছেন।
ভারতের সেই যুব দলের এতজন যেখানে আলো ছড়াচ্ছেন, সেখানে শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ দলের কী অবস্থা! সেদিন দক্ষিণ আফ্রিকায় অপরাজিত ৪৩ রানের ভীষণ পরিণত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে তারকা বনে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক আকবর আলী। তাঁকে মুশফিকুর রহিমের বিকল্প ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তিনি যেন হারিয়েই গেছেন। চলতি প্রিমিয়ার লিগে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে ১৫ ম্যাচে ৩২৫ রান করেছেন। রান সংগ্রহে শীর্ষ ৩০ জনের মধ্যেও নেই তিনি।
গত বিপিএলে তো তাঁর অবস্থা আরও খারাপ ছিল। সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে সাত ম্যাচে মাত্র ২৩ রান করেছিলেন। সেই যুব দলের মাহমুদুল হাসান ইমন আটটি টেস্ট খেলেছেন। লম্বা ধৈর্যের ক্রিকেটে জায়গা পাকা করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। পারভেজ হোসেন ইমন জাতীয় দলে একটি টি২০ খেললেও তাঁকে নিয়ে খুব একটা আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না। শামীম হোসেন তো ১৫টি টি২০ খেলেও জায়গা পাকা করতে পারেননি। সে তুলনায় তাওহীদ হৃদয় ভালোই করছেন।
জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে কিন্তু এগিয়ে বাংলাদেশের ওই যুব দল। ভারতের ওই দলের শুধু রবি বিষ্ণোয়ী জাতীয় দলে খেলেছেন। আর বাংলাদেশ যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের পাঁচজন জাতীয় দলে খেলে ফেলেছেন। আসলে উপযুক্ত হওয়ার আগেই জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন বলেই প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাতে পারছেন না বাংলাদেশের যুবারা। আর ভারত ঘরোয়া ক্রিকেট চমৎকার কাঠামোর ভেতর দিয়ে জয়সওয়াল-তিলকদের দারুণভাবে গড়ে তুলছে, যেন তাঁরা বিশ্ব কাঁপাতে পারেন।
