নীরবেই চলছে দরকষাকষি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২০ | ০৫:১৫ | আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২০ | ০৫:১৮
সারা বিশ্ব যখন করোনা নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে, যখন গোটা ইউরোপের ফুটবল স্থবির, ক্লাবগুলো লোকসানের হিসাব নিয়ে ব্যতিব্যস্ত, ফুটবলাররা অনেকটাই ঘরবন্দি; ঠিক তখনই আবার আলোচনায় নেইমার-বার্সা। কেউ বলছেন করোনার ছায়া সরে গেলেই ব্রাজিলিয়ান তারকার বিমান নামবে স্পেনের মাটিতে। কেউ আবার উড়িয়ে দিচ্ছেন এই খবর।
তবে স্প্যানিশ পত্রিকাগুলো যেন একজোট। তারাই ফলাও করে লিখছে এবার ন্যু ক্যাম্পে সত্যিই ফিরছেন নেইমার। সেজন্য নাকি নীরবেই হচ্ছে দরকষাকষি। এমনকি দরদামও অনেকটা ঠিকঠাক। এখন কেবল অপেক্ষা! কে জানে এবারও কি শুধুই গুঞ্জন, নাকি সমাপ্ত হতে চলেছে এত দিনের চলতে থাকা নেইমার-বার্সা নাটক।
অনেকটা বার্সার বারণ করা শর্তেও স্পেন ছেড়ে প্যারিসে পাড়ি জমান নেইমার। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পিএসজিতে গেলেও আগের মতো আলো ছড়াতে পারেননি তিনি। তার ওপর মৌসুমের বেশিরভাগ সময় চোটের সঙ্গে লড়াই করে রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠেছেন নেইমার। সেজন্যই পুরোনো ঠিকানায় ফেরার ইচ্ছা। নিজ মুখে না বললেও বার্সার প্রতি টান কিন্তু রয়েছে তার।
এখনও সময় পেলে ছুটে যান। আড্ডা দেন পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে। সেখানেই হয় বার্সায় ফেরার গল্পগুলো। করোনার কারণে নেইমার এখন নিজ দেশ ব্রাজিলে। সেখানে নিয়ম মেনে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন তিনি। আপাতত শুয়ে-বসে কাটছে তার সিংহভাগ সময়। তবে এই সময়ে বার্সার সঙ্গে দলবদল নিয়ে কথাও হয়েছে নেইমারের। যেমনটা দাবি করল স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক মুন্ডো দেপোর্তিভো।
অথচ করোনার কারণে বার্সা এখন বিপাকে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এরই মধ্যে খেলোয়াড়দের বেতন কম নিতে বলেছে তারা। আর মেসিরাও তাদের বেতনের ৭০ শতাংশ কম নিতে রাজি হয়েছেন। তাছাড়া ক্লাবের বর্তমান তারকাদের অনেকের চুক্তি নবায়ন নিয়েও উদাসীন দলটি। যার মূলে এই অর্থ সংকট। এর মধ্যে নেইমারকে আনার জন্য কতটা প্রস্তুত কাতালান ক্লাবটি? এখনই বলা মুশকিল। যদিও কয়েকটা মাধ্যম তাদের সূত্রের বরাত দিয়ে বলছে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ যাতে নেইমারকে কিনতে না পারে সেজন্য যে করে হোক নেইমারকে আনতে চায় বার্সা।
এসব কিছুর উত্তর পেতে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষায় থাকতে হবে আরও ক'টা মাস। একে তো করোনার প্রভাব, তার ওপর দলবদলের প্রি-সিজন উইন্ডো খুলবে ১ জুলাই থেকে। আর বন্ধ হবে ২ সেপ্টেম্বর। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে হয়তো এই সময়ে নেইমার-বার্সা চুক্তি হলেও হতে পারে।
