নিউইয়র্কে হালান্ড-ভিনিসিয়ুস দ্বৈরথের অপেক্ষা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩২
নিউইয়র্কে ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে লড়াইয়ের ভেতরেও কিছু লড়াই রয়েছে। তেমনই একটি হলো আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের লড়াই। এই দুই সুপার স্টারের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে ম্যাচের ফলাফল। দুজনেই চলতি বিশ্বকাপে দারুণ ফর্মে আছেন। ৫ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে তৃতীয় স্থানে আছেন হালান্ড। ৪ গোল নিয়ে ভিনিসিয়ুস আছেন তাঁর পেছনেই।
ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড একেবারে ট্র্যাডিশনাল সেন্টার ফরোয়ার্ড। নরওয়ের এই স্ট্রাইকার বক্সের ভেতরে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ফুটবলারদের একজন। অবিশ্বাস্য গতি, শারীরিক শক্তি, শট ও হেডে গোল করার অসামান্য দক্ষতার জন্য পরিচিত ২৫ বছরের এ তারকা। হালান্ড মূলত গোল স্কোরার, বক্সের ভেতরে নিখুঁত পজিশনে থাকেন তিনি এবং খুব সহজেই বল জালে জড়াতে পারেন।
রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস মূলত লেফট উইঙ্গার। তিনি দুরন্ত গতি, অসাধারণ ড্রিবলিং, বল কন্ট্রোল ও পায়ের কাজে ডিফেন্ডারদের বোকা বানাতে দক্ষ। ভিনিসিয়ুস একজন প্লেমেকার ও ফিনিশার। তিনি উইং ধরে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে গোল করতে পারেন এবং সতীর্থদের দিয়েও করাতে পারেন। ক্লাব ফুটবলে কয়েক বছর ধরে এ দুই তারকার দ্বৈরথ বেশ জনপ্রিয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানসিটির বিপক্ষে বেশ সফল ভিনি। রিয়াল মাদ্রিদের এ তারকা সিটির বিপক্ষে ১২ ম্যাচ খেলে ৪টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন। রিয়ালের বিপক্ষে হালান্ডের রেকর্ডও বেশ ভালো। স্প্যানিশ জায়ান্টদের বিপক্ষে ৮ ম্যাচ খেলে ৪ গোল করেছেন তিনি।
হালান্ড এখন ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে আছেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে তাঁর গোলেই জিতেছে নরওয়ে, যা বিশ্বকাপের নকআউটে তাদের প্রথম জয়। নরওয়ে এখন হালান্ডের কাঁধে ভর দিয়েই ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের মতো ব্রাজিলকে হারাতে চায়। হালান্ড অবশ্য ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের ‘সম্ভাবনা ক্ষীণ’ বলে মনে করছেন। ২৮ বছর আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতা সেই ম্যাচে বর্তমান কোচ সোলবাকেন নরওয়ের মিডফিল্ড সামলেছিলেন। তিনি সেলেসাওদের বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, ‘ব্রাজিল অবশ্যই ফেভারিট। তবে আশা করছি, আমরা তাদের স্মরণীয় একটি ম্যাচ উপহার দেব। আমরা কিন্তু মজা করার জন্য ম্যাচটি খেলছি না। আমরা জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে চাই। এটা সম্ভব, তবে ভীষণ কঠিন।’
বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হালান্ড এই কঠিনকে সম্ভব করবেন বলে বিশ্বাস সোলবাকেনের। সিটির এই তারকা সর্বশেষ ১৩ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৫ গোল করেছেন। নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডও হালান্ডের কারণেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী, ‘তাঁকে দলে পাওয়া আসলে দারুণ ব্যাপার। ভাগ্যগুণে এমন একজনকে পাওয়া যায়। এখন আমাদের কাজ হলো তাঁকে যত বেশি সম্ভব বলের জোগান দিয়ে যাওয়া।’
ব্রাজিলের ট্রাম্পকার্ড হলো ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে এবারের আসরে ব্রাজিল সমর্থকদের আশাভরসার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন ২৫ বছরের এ তারকা। রোনালদো ও রিভালদোর পর তিনি হলেন প্রথম ব্রাজিলিয়ান, যে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছেন। এমনকি ব্রাজিলের পোস্টারবয় নেইমারও স্বীকার করেছেন এবারের আসরে তাদের প্রধান তারকা ভিনিসিয়ুস। তাঁকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে সবকিছু। ভিনিসিয়ুস কতটা ভয়ংকর, সে ধারণা নরওয়ের গোলরক্ষক ন্যায়ল্যান্ডের ভালো মতোই রয়েছে। গত তিন মৌসুম ধরে তিনি সেভিয়ার হয়ে লা লিগায় খেলছেন।
অবশ্য এ গোলরক্ষকের বিশ্বাস, তারা ভিনিকে আটকে দিতে পারবেন এবং ব্রাজিলকে হারাতে পারবেন। ব্রাজিল শিবিরও হালান্ডকে নিয়ে সতর্ক। স্ট্রাইকার ম্যাথেউস কুনিয়া অবশ্য শুধু হালান্ডকে নিয়ে ভাবছেন না, ‘আমার মনে শুধুমাত্র হালান্ডের ওপর সব মনোযোগ দেওয়া উচিত হবে না। তাদের আরও বেশ কজন দারুণ ফুটবলার রয়েছে। তারা দীর্ঘদেহী ও শারীরিকভাবে শক্তপোক্ত। বাতাসে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
