ভেন্যুর উচ্চতা নিয়ে ভয় ইংলিশদের
আহসান হাবিব সম্রাট
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ১০:৪৯
বিশ্বকাপের শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে টুর্নামেন্টের সহস্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হচ্ছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। আগামীকাল সোমবার সকাল ৬টায় মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের এ দুই চ্যাম্পিয়ন। গুরুত্বপূর্ণ এ লড়াইয়ে থ্রি লায়নদের বড় দুশ্চিন্তা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভেন্যুর উচ্চতা। এ ছাড়া টুর্নামেন্টে এখনও গোল হজম না করা এল ট্রাইদের বিপক্ষে অবতীর্ণ হওয়াটা কোচ টমাস টুখেলের শিষ্যদের জন্য যেন ‘অগ্নিপরীক্ষা’।
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় দিয়ে আসর শুরু করে ইংল্যান্ড। পরের ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে গোলহীন ড্রয়ের পর পানামার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় থ্রি লায়নরা। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় অধিনায়ক হ্যারি কেইন বাহিনী। শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে আফ্রিকার ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথম গোল হজম করেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ এ জয় তুলে নেয় ইউরোপীয় দলটি। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ইংল্যান্ড দলপতি এ আসরে ৫ গোল করে গ্যারি লিনেকারের রেকর্ড পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। কেইনের পাশাপাশি জুড বেলিংহ্যাম ও মার্কাস রাশফোর্ডের ওপর ভর করে টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে ৮ গোল দিয়ে ৩ গোল হজম করেছেন ১৯৬৬-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
অন্যদিকে বিশ্বকাপে জয়রথ ছুটিয়ে চলেছে মেক্সিকো। টুর্নামেন্টের সহস্বাগতিকরা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে আসর শুরু। গ্রুপ পর্বের পরের ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ ও চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে রাজসিকভাবে নকআউট পর্বে ওঠে। শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে লাতিন আমেরিকার ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারান কোচ হ্যাভিয়ের আগুয়েরোর শিষ্যরা। টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সবগুলো ম্যাচ জয়ের পথে প্রতিপক্ষের জালে আটবার বল পাঠালেও এখনও গোল হজম না করাটা মেক্সিকোর আক্রমণভাগ ও রক্ষণভাগের শক্তির জানান দিচ্ছে। আক্রমণভাগের দুই তারকা হুলিয়ান কুইনোনেস তিনটি ও রাউল জিমেনেজ দুটি গোল করেছেন। এ ছাড়া একটি করে গোলের দেখা পেয়েছেন লুই রোমো, আলভারো ফিদালগো ও মাতিও শ্যাভেজ।
তবে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এল ট্রাই দলের চেয়ে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ডের ভয়ের কারণটা অন্য জায়গায়। আজতেকা স্টেডিয়াম যেন থ্রি লায়নদের ‘কারবালা প্রান্তর’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭২২০ মিটার উচ্চতায় এ ভেন্যুতে নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা মেলে ধরা ইউরোপীয় দলটির জন্য কঠিনই বটে। এ ছাড়া এ ভেন্যুতে অতীত ইতিহাসও ইংলিশদের জন্য সুখকর নয়। এ ভেন্যুতেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় থ্রি লায়নরা। যে ম্যাচে চার মিনিটের ব্যবধানে ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ করে ফুটবল ইতিহাসে ‘অমরত্ব’ লাভ করেন ম্যারাডোনা।
মেক্সিকো ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করে টমাস টুখেল বলেন, অধিক উচ্চতার ভেন্যুতে খেলার বিষয়ে বিজ্ঞানসম্মত সমাধান হচ্ছে, সেখানে ১০ দিন আগে দিয়ে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। অথবা ম্যাচের ঠিক আগমুহূর্তে সেখানে পৌঁছানো। যেটা সম্ভব নয়। কারণ বিশ্বকাপে ম্যাচের মাঝখানে ১০ দিন বিরতি নেই। আবার টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ ভেন্যুতে অন্তত এক দিন আগে পৌঁছাতে হবে। এ কারণে আমরা মাঝামাঝি পথ বেছে নিয়েছি, দুদিন আগেই এখানে উপস্থিত হয়েছি।
ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় যে ভেন্যু, স্বাগতিক মেক্সিকোর জন্য তা নির্ভরতার জায়গা। আজতেকায় ৮৯ ম্যাচ খেলে ৭০টিতে জয় ও ১৭টিতে ড্র করেছে এল ট্রাই দল। হেরেছে মাত্র দুটি ম্যাচ।
স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ইংলিশদের আত্মবিশ্বাস ভড়কে দেওয়ার জন্য আরও একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। ২০০৭ সালের ওই পরিসংখ্যানে দক্ষিণ আমেরিকার ১৪০০ ফুটবল ম্যাচের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রায় সমান উচ্চতার ভেন্যুতে খেলে অভ্যস্ত দলগুলোর মধ্যে ৫৩ শতাংশ ম্যাচে স্বাগতিকরা জয় পেয়েছে। কিন্তু ভিন্ন উচ্চতায় ফুটবল খেলে অভ্যস্ত দুই দলের লড়াইয়ে অধিক উচ্চতায় খেলা দল ৮২.৫ শতাংশ ম্যাচে জিতেছে। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপের নকআউটে জয়ের রেকর্ডও সুবিধার নয়। ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বিদায়ের পর মাত্র ছয়টি নকআউট পর্বের ম্যাচে জিতেছে থ্রি লায়নরা।
