গাজায় এবার ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের তোড়জোড়
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির অভিযোগ এনেছেন। ছবি: রয়টার্স
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ১২:১৮ | আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ১২:৪০
দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পর গাজা উপত্যকার অবশিষ্ট ভূখণ্ডে ও ইহুদি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে তেল আবিব। সম্প্রতি উপত্যকায় নতুন করে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। সম্প্রতি ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর মন্ত্রণালয় উত্তর গাজায় নতুন তিনটি বসতি স্থাপনের রূপরেখা তৈরি করেছে। এখন শুধু প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেতের অপেক্ষা। এর পরদিনই একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু গাজায় বসতি স্থাপনের সম্ভাবনার কথা জানান।
নেপথ্যে ইসরায়েলি নেতাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ
গাজায় বসতি স্থাপনের এই আলোচনা মূলত ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং নেতাদের ব্যক্তিগত স্বার্থরক্ষার কৌশল। সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, আগামী নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে বেশ পিছিয়ে রয়েছেন স্মোট্রিচ। কট্টর ডানপন্থিদের সমর্থন ধরে রাখতে এবং নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই তিনি গাজায় বসতি স্থাপনের বিষয়টি সামনে আনছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জন্য এই বাজি আরও বেশি নাটকীয়। একাধিক দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দোষী সাব্যস্ত হলে কারাদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে জনগণের ক্ষোভ ঢাকতে তিনি গাজা পরিকল্পনাকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বসতি অবৈধ
আলজাজিরা জানায়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের বর্তমান বসতিগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। গাজায় ইসরায়েলি বসতি আরও সম্প্রসারণের পথ সুগম করতে ইসরায়েল এরই মধ্যে লাখো ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত ও হত্যা করেছে। একই সময়ে, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির অভিযোগ এনেছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
অভ্যন্তরীণভাবে বড় কোনো বাধা না থাকলেও আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়ার কারণে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইসরায়েলকে বেগ পেতে হতে পারে। তবে সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবিচল সমর্থন এবং ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের কারণে ইসরায়েল কখনোই আন্তর্জাতিক সমালোচনার তোয়াক্কা করে না। অতীতে ওসলো চুক্তির পর ফিলিস্তিনে বসতি সম্প্রসারণ হলেও পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
পশ্চিম তীরে শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি অভিযান
গাজার বাইরে অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস, তুবাস ও আল-ফারআ শরণার্থী শিবিরেও অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গতকাল শনিবার আলজাজিরা জানায়, নাবলুস থেকে দুই ফিলিস্তিনি তরুণকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। প্রতিদিনের এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের নিয়মিত হামলা ও সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা।
এদিকে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের একাধিক প্রতিবেদনে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার স্পষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। তবে দুই বছর ধরে চলা এই নৃশংসতা, শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করা ও দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির লাইভ ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও পশ্চিমা শাসকরা একে গণহত্যা বলতে বা জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
