ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

আলি খামেনির শেষ বিদায়

তেহরানে শোকাহত জনতার সমুদ্র

লাল পতাকা হাতে সমর্থকদের ‘প্রতিশোধের’ বার্তা

তেহরানে শোকাহত জনতার সমুদ্র
×

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে গতকাল শনিবার তেহরানে জনতার বিশাল সমুদ্র তৈরি হয়। লাখ লাখ শোকার্ত মানুষ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন -এএফপি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৭ | আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দলে দলে মানুষ পাড়ি জমাচ্ছেন তেহরানে। দেশটির কর্মকর্তারা অনুমান করছেন, শুধু রাজধানীতেই এক কোটির বেশি মানুষ এসে হাজির হতে পারেন। 

গতকাল শনিবার বহু ইরানিকে তেহরানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এ রকমই একজনের নাম সোমায়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতার প্রতি ভালোবাসা থেকে এখানে এসেছি। এই অপেক্ষা তিক্তমধুর।’ অনেকে আবার দীর্ঘসময় শোক আয়োজনের জন্য অপেক্ষায় থাকাকে আমলে নিতেই নারাজ। তাদের মতে, আলি খামেনি দেশের জন্য যা করেছেন, তার সামনে এটি কিছুই না।

আয়োজনের ব্যাপকতা দেখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফাতেমাহ বলেন, ‘তারা (ইরানের কর্মকর্তারা) তাঁকে (আলি খামেনি) বিদায় দেওয়ার জন্য চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেননি।’ আরেক শিক্ষার্থী মাহদি বলেন, ‘১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা কোনো বিষয়ই না। আমরা যেন আমাদের নিজ পরিবারের শোক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি।’

দ্বৈত বার্তা
এদিকে, বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের দ্বৈত অর্থ বহন করবে বিশ্ববাসীর কাছে। কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেন, ‘যখন আপনি শোক ও একতার প্রকাশ্য চিত্র তুলে ধরেন, তখন তা বার্তা দেয়– দেশের ভেতরে জনগোষ্ঠীর বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে এই শাসক শ্রেণির বৈধতা রয়েছে। এই একতা নভেম্বর বা ডিসেম্বরে ছিল না। এটি এখন তৈরি হয়েছে।’ 

এদিকে, আলি খামেনির জানাজা ও শোক অনুষ্ঠানের জন্য জড়ো হতে থাকা মানুষের হাতে দেখা গেছে লাল পতাকা। অনেকেই এটি বহন করছেন। 

আলি খামেনি ইরান সরকারকে শক্তিশালী করেছেন
এদিকে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরান সরকারকে শক্তিশালী করেছেন বলেই মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র‍্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আলি আকবর দারেইনি বলেন, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ইরান সরকারের জন্য টেকসই ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। এটিকে প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন, যাতে কোনো ব্যক্তির ওপর এটি নির্ভর না করে।

তিনি বলেন, এ কারণেই ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে টিকে গেছে যুদ্ধের প্রথম দিনে সর্বোচ্চ নেতা ও সামরিক কমান্ডার প্রাণ হারানো সত্ত্বেও। এটি খামেনির অন্যতম বড় অর্জন।

এদিকে, ইরানের সরকার যে অব্যাহত থাকবে– সে বার্তাও দিচ্ছে আলি খামেনির জানাজা ও শোক আয়োজন। এ প্রসঙ্গে এসলামি বলেন, ‘ইরানের ইতিহাসে আয়াতুল্লাহর অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে এবং বহির্বিশ্বের কাছে এটি চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।’

কেন নেই মুজতবা খামেনি
এদিকে, বাবার শেষ বিদায়ের আয়োজনে নেই মুজতবা খামেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সতর্কতা থেকেই তাঁকে দূরে রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এসলামি বলেন, ‘এখানে মূল লক্ষ্য হলো নেতৃত্বকে নিরাপদ রাখা, তাঁর নেতৃত্বকে নিরাপদ রাখা, বিশেষ করে এই দুর্বল মুহূর্তে।’

অন্যদিকে কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির মাসগ্রেভ বলছেন, ‘ইসরায়েল যে তেহরানে শোক আয়োজনে দ্বিতীয় হামলা চালাতে পারে, সে সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখেছে ইরান।’

আরও পড়ুন

×