ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

কার্যালয়ে তালা দিতে পারবেন, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে পারবেন না: মমতা

কার্যালয়ে তালা দিতে পারবেন, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে পারবেন না: মমতা
×

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ২২:১৫ | আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ২২:১৭

নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে বিদ্রোহীদের দলীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে এক ফেসবুক লাইভে মেট্রোপলিটানের দলীয় কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। মেট্রোপলিটানের ওই ভবনের সমস্ত নথিপত্র ও রসিদ প্রকাশ্যে এনে বিদ্রোহী শিবিরের তোলা ‘মালিকানাহীন’ বা ‘ভাড়া না দেওয়ার’ সমস্ত দাবির উত্তর দেওয়ার দাবি করেন কালীঘাটের নেত্রী।

ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কালীঘাটের পুরোনো দলীয় কার্যালয়টি ভেঙে পড়ছিল এবং সেটির সংস্কার কাজ চলায় সাময়িকভাবে মেট্রোপলিটানের এই বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। চেকে প্রতি মাসে নিয়ম করে ১ লক্ষ টাকা ভাড়া এবং সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল ও কর্পোরেশনের সমস্ত কর দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তাহলে কেন সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে গিয়ে তালা দিয়ে এলেন?’ 

বিদ্রোহীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘একটা বাড়ি তালা দিতে পারবেন, কিন্তু মনে রাখবেন মানুষের হৃদয়কে কখনো তালা দেওয়া যায় না।’ 

দল গঠনের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এই ৩০ বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটিই গোড়া থেকে দলীয় কার্যালয় হিসেবে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। নিশ্চিন্তে থাকুন, আমি থাকব।’ 

উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল শুক্রবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সন্দীপন সাহা, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খানের মতো বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়করা মেট্রোপলিটনের কার্যালয়ে গিয়ে বৈঠক করেন এবং ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে চলে যান। বিদ্রোহী নেতা আখরুজ্জামান দাবি করেছিলেন, তারা ভবনের মালিকের সাথে কথা বলে কার্যালয়টি পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে বিকেলেই নথিপত্রসহ মমতা লাইভে প্রতিক্রিয়া জানান। 

এদিকে কার্যালয়কে ঘিরে এই চরম উত্তেজনার মাঝেই দলের দীর্ঘদিনের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে কালীঘাটপন্থী নেতা কুণাল ঘোষ প্রগতি ময়দান থানায় এই ঘটনার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নির্বাচন কমিশনে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করা ঋতব্রত শিবিরের এই পদক্ষেপের পর মমতার এই কড়া অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সংঘাতের পারদ আরও বাড়িয়ে দিল। 

আরও পড়ুন

×