দানিলোর ছায়া ২০০২ বিশ্বকাপের ‘গোপনঅস্ত্র’ ক্লেবারসনে
ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার ক্লেবারসন ও বর্তমান দলের ফুটবলার দানিলো সান্তোস (ডানে)
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ২৩:০৭
ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী দলে অখ্যাত মুখ ছিলেন মিডফিল্ডার ক্লেবারসন। বয়স কম ছিল তার। খেলতেন অ্যাথলেটিকো পারানান্সে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের তৎকালীন কোচ ফিলিপে স্কোলারি তাকে ‘গোপনঅস্ত্র’ আখ্যা দিয়েছিলেন। ক্লেবারসন গ্রুপ পর্বে কোস্তারিকা এবং শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের বিপক্ষে বদলি নেমেছিলেন।
পরে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে শুরুর একাদশে ছিলেন ক্লেবারসন। ফাইনালে রোনালদোর দ্বিতীয় ও শেষ গোলে সহায়তা দিয়েছিলেন। অলিভার কানের গোলবার নাড়িয়ে দেওয়া একটা শটও নিয়েছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে কার্লো আনচেলত্তির দলের তরুণ মিডফিল্ডার দানিলো সান্তোসের মধ্যে নিজের ছায়া দেখেন ক্লেবারসন।
জি গ্লোবো দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, লুকাস পাকেতার ইনজুরিতে দানিলো শুরুর একাদশে জায়গা পেতে পারে। তার ভোট দানিলোর দিকে থাকবে এবং বোটাফোগোর এই মিডফিল্ডার ডন কার্লোর ‘গোপনঅস্ত্র’ হয়ে উঠতে পারেন। অনেকটা ২০০২ বিশ্বকাপে তার মতো।
দানিলোর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে ক্লেবারসন বলেন, ‘আমি দানিলোর গল্পের সঙ্গে নিজের অনেক মিল পাই। তাকে একেবারেই শেষ মুহূর্তে দলে ডাকা হয়েছে। আমারই মতো। তবে মাঠে নামার পরে দানিলোর গায়ে ব্রাজিলের জার্সি খুবই মানানসই লেগেছে। তাকে একেবারেই নির্ভার মনে হয়েছে। তাকে মাঠে নেমে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে দেখেছি।’
বিশ্বকাপে খেলার স্মৃতি স্মরণ করে ক্লেবারসন জানান, তিনি তখন তরুণ ছিলেন। দলে ছিলেন রোনালদো, রিভালদো, কাফুর মতো তারকারা। তাদের ওপর ভর করা পাহাড়সম চাপ কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। যেটা তাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সহযোগিতা করেছিল। ম্যাচের আগে তাদের মনোযোগ, প্রস্তুতি দেখে নিজে কতটা প্রস্তুত হওয়া দরকার সেই দীক্ষা পেয়েছিলেন।
ক্লেবারসন ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মাঝমাঠে প্রাণশক্তি যোগ করেছিলেন। দারুণ গতিতে বক্স টু বক্স মিডফিল্ডারের ভূমিকা পালন করতেন তিনি। তার গতি ও রক্ষণ-আক্রমণের ভারসাম্যের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড মাঝমাঠে আটকে গিয়েছিল। ফাইনালেও জার্মানিকে মাঝমাঠে স্পেস দেননি তিনি।
কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমি কিংবা ফাইনালের মতো মঞ্চে তাকে গোপনঅস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা প্রসঙ্গে ক্লেবারসন বলেন, ‘ফিলিপে আমার কাছে এসে বললেন, তোমাকে কেউ ভালো মতো চেনে না। ওরা জানেই না, তোমার মধ্যে কী দুর্দান্ত ফুটবল লুকিয়ে আছে। তোমার অ্যাথলেটিকোর খেলাটা এখন আমার দরকার। মাঠে আমি আমার ভূমিকা জানতাম। অনুশীলনে তা রপ্ত করেছিলাম। ক্লাবেও একই ভূমিকা ছিল। যা আমাকে ম্যাচে মানিয়ে নিতে, স্বাধীনভাবে খেলতে ও ঝুঁকি নিতে সহায়তা করেছিল।’
- বিষয় :
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
