আসতেকায় ইংল্যান্ডের সামনে তিন ‘শত্রু’
কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে মেক্সিকো-ইংল্যান্ড মুখোমুখি। ছবি: সংগৃহিত
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ২১:২৪
ম্যাচের আগের রাতে ইকুয়েডরের খেলোয়াড়দের ঠিক মতো ঘুমাতেই দেয়নি মেক্সিকোর ভক্তরা। নকআউট ম্যাচের আগে টিম হোটেলের পাশে উচ্চ শব্দে হর্ণ, সাইরেন ও গান বাজিয়েছে তারা। ইংল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট বুঝে গেছে, মেক্সিকোয় ‘ঘুম হারাম’ হবে তাদেরও। যে কারণে গোপন রাখতে চেয়েছিলেন টিম হোটেলের ঠিকানা।
কিন্তু লাভ কিছু হয়নি। বিমানবন্দর থেকে নামার পরই মেক্সিকোর ভক্তরা তাদের দুয়ো দিতে শুরু করে। ভক্তদের হাতে মেক্সিকোর জার্সি-পতাকা দেখা গেছে। ইংল্যান্ডের টিম হোটেলের খবরও বের করে ফেলেছেন তারা। মাঠের বাইরে দর্শকদের এই জ্বালাতন সহ্য করে মেক্সিকোর আসতেকা স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের ঝামেলাও পার করতে হবে হ্যারি কেনদের।
শুধু দর্শক তো নয় বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৬টার ম্যাচে ইংল্যান্ডকে জয় করতে হবে আসতেকা স্টেডিয়ামের বৈরি কন্ডিশন। ইতিহাসও পক্ষে নয় টমাস টুখেলের দলের। আসতেকা স্টেডিয়ামে হারে না মেক্সিকো। সেখানে ৮৯ ম্যাচ খেলে স্বাগতিকরা হেরেছে মাত্র দুটিতে। রেকর্ড তিনটি বিশ্বকাপের আয়োজক মেক্সিকো, স্বাগতিক হিসেবে আসতেকায় বিশ্বকাপের ১০ ম্যাচ খেলে অপরাজিত তারা।
আসতেকায় মেক্সিকোর এই সাফল্যের পেছনে আছে এক রহস্য। স্টেডিয়ামের উচ্চতা। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে স্টেডিয়ামটি ২ হাজার মিটার ওপরে। যে কারণে বিদেশি দলগুলো অক্সিজেন স্বল্পতায় ভোগে। সঙ্গে আছে গরম। ঠিক মতো শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে না পেরে বিদেশি দলগুলো ইউরোপ, এশিয়ার খেলোয়ড়রা হাঁপিয়ে ওঠে।
ইতিহাসও হ্যারি কেনদের বিপক্ষে। ৪০ বছর আগে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরেছিল ইংল্যান্ড। ওই ম্যাচে হাত দিয়ে গোল করেছিলেন ডিয়াগো ম্যারাডোনা। আসতেকার যে ভূত এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় ইংলিশদের। ৪০ বছর পর আসতেকায় পুরনো ক্ষত সারানোর লড়াইয়ে নামবেন হ্যারি কেইনরা।
সব বিবেচনা করেই সম্ভবত ইংল্যান্ডের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার মার্ক গেহি মেক্সিকোকে ফেবারিট বলেছেন, ‘আমরা জানি তারা ভালো দল। দর্শক তাদের পক্ষে। আমি তাদের ফেবারিট বলবো। কারণ কন্ডিশন তাদের চেনা। গোলও কম হজম করছে। বিশ্বকাপে আপনাকে শীর্ষ দলের বিপক্ষে, যেকোন কন্ডিশনে খেলতে হবে। আমরা ম্যাচটা খেলতে মুখিয়ে আছি।’
- বিষয় :
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
